রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ:
সংকট নিরসনে বেসরকারিভাবে তেল আমদানির অনুমতি চায় পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ঝুঁকিতে ১৩.৫ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স; ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাড়ল ডলারের দাম, আমদানিতে ১২৩ টাকা ঈদে ডিজিটাল লেনদেন নিরবচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের<gwmw style="display:none;"></gwmw> দেশের মানুষ দূর্নীতি ও চাঁদাবাজি মুক্ত সূশাসন দেখতে চায়: মুফতি আমির হামযা বিদেশি বিনিয়োগের মুনাফা ও মূলধন ফেরতে কড়াকড়ি শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক<gwmw style="display:none;"></gwmw> অনিয়ম রোধে ৪ বেসরকারি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ প্রশমনের আহ্বান চীনের বিশেষ দূতের কক্সবাজার সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নাভানা লিমিটেডের দীর্ঘদিনের টয়োটা ডিলারশিপ হারানোর শঙ্কা

ঢাকা, ১২ জুলাই: বাংলাদেশের বেসরকারি গাড়ি বাজারে টয়োটার একচেটিয়া প্রাধান্য ধরে রাখার জন্য দায়ী দীর্ঘদিনের ডিস্ট্রিবিউটর নাভানা লিমিটেড জাপানি এই অটোমেকার কোম্পানির সাথে তাদের সম্পর্ক হারাতে চলেছে।

টয়োটা জাপান ইতোমধ্যে নাভানার নেটওয়ার্কের বাইরে দুটি নতুন সার্ভিস সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে, যা সেবার মান ও বিক্রয় কৌশল নিয়ে উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া বলে মনে করা হচ্ছে। ঐতিহাসিক সম্পর্কের অবসান? ১৯৬৪ সালে তৎকালীন ইসলাম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে নাভানা লিমিটেড পূর্ব পাকিস্তানে টয়োটার একমাত্র ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ শুরু করে।

সেই সময় ফিয়াট, মরিস, অস্টিন, ফোর্ড ও ভক্সওয়াগনের মতো ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলোর প্রাধান্য থাকলেও নাভানার দক্ষ বিক্রয় ও বিশ্বস্ত বিক্রয় পরবর্টতী সেবা টয়োটাকে বাংলাদেশের বাজারে আধিপত্য বিস্তারে সহায়তা করে। ব্যবসায়িক পরিবর্তন ও অবনতি জহিরুল ইসলামের মৃত্যুর পর ইসলাম গ্রুপের ব্যবসা ভাগ হয়ে যায়, যেখানে নাভানা লিমিটেড তার ছোট ভাই শফিউল ইসলাম কামালের মালিকানায় যায়।

কামালের নেতৃত্বে নাভানা গ্রুপ নির্মাণ ও অটোমোটিভ ছাড়াও ইঞ্জিনিয়ারিং, খাদ্য, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে সম্প্রসারিত হয়। তবে টয়োটা ডিলারশিপ ব্যবসায় চ্যালেঞ্জ দেখা দেয় যখন কামালের বড় ছেলে সাইফুল ইসলাম, যিনি নাভানা লিমিটেডের টয়োটা অপারেশন তদারকি করতেন, কানাডায় বেশিরভাগ সময় কাটাতে শুরু করেন। এসময় বাংলাদেশে টয়োটার সেবার মানও কমতে থাকে বলে অভিযোগ ওঠে। ঋণের বোঝা ও ব্যবস্থাপনায় শিথিলতা দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে নাভানা গ্রুপের উপর ব্যাংক ঋণের বোঝা চাপে।

২০০৯ সালে সরকার গ্রুপটিকে ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দিলেও শফিউল ইসলাম কামালের স্মৃতিভ্রংশ ও স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে গ্রুপের তদারকি দুর্বল হয়ে পড়ে।

টয়োটার প্রতিক্রিয়া: বাংলাদেশ থেকে টয়োটার বিক্রয় উত্তর সেবা নিয়ে অভিযোগ জাপানে পৌঁছালে টয়োটা কর্তৃপক্ষ নাভানার ডিলারশিপ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে। তারা আইনি পর্যালোচনার জন্য আন্তর্জাতিক আইন ফার্ম DFDL-কে নিয়োগ দিয়েছে। এরই মধ্যে টয়োটা ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি অস্থায়ী সার্ভিস সেন্টার চালু করেছে, যেখানে কন্টিনেন্টাল ওয়ার্কস লিমিটেড (ঢাকা) ও কার্বয় প্রাইভেট লিমিটেড (চট্টগ্রাম) সেবা দিচ্ছে।

বাজারে প্রভাব – পুনঃসংযোজিত গাড়ি: বাংলাদেশে টয়োটার ৫০%-এর বেশি গাড়ি পুনঃসংযোজিত, যা নাভানার উপর নির্ভরশীল নয়।

নতুন গাড়ি আমদানি: নাভানার চুক্তি বাতিল হলে নতুন গাড়ি আমদানি খোলা বাজারে চলে যেতে পারে, যেখানে যেকোনো আমদানিকারক টয়োটা গাড়ি আনতে পারবে।

ভোক্তাদের উদ্বেগ: অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় টয়োটার ল্যান্ড ক্রুজারের মতো লাক্সারি গাড়ির বিক্রয় ৯৫% কমেছে, তবে করোলার মতো বাজেট মডেলের চাহিদা রয়ে গেছে।

টয়োটার বক্তব্য টয়োটা তসুশো বাংলাদেশের গ্রাহকদের জন্য “গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড সেবা” নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে, নাভানা গ্রুপ এখনো এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।