রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ:
সংকট নিরসনে বেসরকারিভাবে তেল আমদানির অনুমতি চায় পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ঝুঁকিতে ১৩.৫ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স; ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাড়ল ডলারের দাম, আমদানিতে ১২৩ টাকা ঈদে ডিজিটাল লেনদেন নিরবচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের<gwmw style="display:none;"></gwmw> দেশের মানুষ দূর্নীতি ও চাঁদাবাজি মুক্ত সূশাসন দেখতে চায়: মুফতি আমির হামযা বিদেশি বিনিয়োগের মুনাফা ও মূলধন ফেরতে কড়াকড়ি শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক<gwmw style="display:none;"></gwmw> অনিয়ম রোধে ৪ বেসরকারি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ প্রশমনের আহ্বান চীনের বিশেষ দূতের কক্সবাজার সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জনতা ব্যাংকের ৯,৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ ১৬৩ জনের বিরুদ্ধে ৫ মামলা দুদকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ঋণের শর্ত ভঙ্গ এবং জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক পিএলসির দুটি শাখা থেকে ৯ হাজার ৪২৮ কোটি ৫৯ লাখ ৬৩ হাজার ৯৯৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পাঁচটি পৃথক মামলার অনুমোদন দিয়েছে।

এই মামলায় জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন আহমেদএস এম মাহফুজুর রহমান, সাবেক সিইও ও এমডি মো. আব্দুস সামাদ আজাদ-সহ মোট ১৬৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) মামলাগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। শিগগিরই দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করবেন।

এস আলম গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মামলায় এস আলম গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ডজনখানেক কর্মকর্তা ও মালিকদেরও আসামি করা হয়েছে। আত্মসাৎ হওয়া ঋণের টাকা জনতা ব্যাংক পিএলসির সাধারণ বীমা ভবন করপোরেট শাখা ও চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখা থেকে নেওয়া হয়েছিল।

অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, আসামিদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:

  • প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার।
  • ঋণ মঞ্জুরি পত্রের শর্ত ভঙ্গ করে সহ-জামানত বৃদ্ধি না করা।
  • অনুমোদনহীন সীমাতিরিক্ত ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ঋণ সৃষ্টি করা।
  • প্রয়োজনীয় অঙ্গীকারনামা বা গ্যারান্টি না নেওয়া।
  • ঋণের তুলনায় খুবই নগণ্য পরিমাণে এফডিআর জমা রাখা।
  • নিয়মবহির্ভূত আমদানি করা।
  • মর্টগেজকৃত সম্পত্তির অতিরিক্ত মূল্যায়ন করা ও প্রয়োজনের তুলনায় কম সহায়ক জামানত নেওয়া।

যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

দুদক সূত্রে জানা যায়, পাঁচটি পৃথক মামলার অভিযোগের পরিমাণ ও আসামিদের সংখ্যা নিম্নরূপ:

মামলার বিষয়বস্তু (এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান)আত্মসাতের অভিযোগের পরিমাণ (প্রায়)মোট আসামি (পরিচালক ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ)
১. এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড১ হাজার ১৫২ কোটি ৫১ লাখ টাকা৩২ জন
২. এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড২ হাজার ৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকা৩৬ জন
৩. এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড২ হাজার ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা৩২ জন
৪. এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টীলস লিমিটেড২ হাজার ২৯৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা৩২ জন
৫. এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড১ হাজার ৯৪২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা৩১ জন

মোট আত্মসাতের পরিমাণ: ৯,৪২৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা

উল্লেখ্য, গত ৭ ডিসেম্বর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে ১ হাজার ৯৬৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জনতা ব্যাংকের সাবেক দুই চেয়ারম্যান ও এমডিসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করেছিল দুদক।