রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
সাড়ে ৫ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে টাকা: বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ ও ইউনানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ১৪তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তনে বদলে যাচ্ছে খানাপিনার অভ্যাস, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি: গবেষণা কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এসডিজি অর্জনে গতি বৃদ্ধি ও সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার দাবি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো তিতাস-২৮ কূপের গ্যাস, দৈনিক মিলবে ১২-১৩ এমএমসিএফডি বিজিএমইএ কাপ ২০২৬-এর ট্রফি উন্মোচন ও বাফুফে অংশীদারিত্ব উদযাপন বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত পুনরুজ্জীবনে ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ ইইউতে কমেছে পোশাক আমদানি, তবে জুন ও জুলাইয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি

উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজার অস্থিতিশীলতা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্বেগ

উদারীকরণ: আমির খসরু

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা : চাল, আলু, পেঁয়াজ ও পোল্ট্রিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের “এ স্টাডি অন ভ্যালু চেইন এফিসিয়েন্সি অব দ্য এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টস ইন বাংলাদেশ (২য় পর্যায়)” শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। মজুরি বৃদ্ধি, সার ও বীজের উচ্চমূল্য এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ।


চালের বাজারে অস্থিরতার কারণ

জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় মোটা চালের খুচরা মূল্য ১০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজি ৬১ টাকায় দাঁড়িয়েছে । এর প্রধান কারণ হিসেবে উৎপাদন খরচ ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা মূলত শ্রমিক মজুরি এবং সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ার কারণে হয়েছে । এছাড়া, ধান চাষের চেয়ে আলু, পেঁয়াজ ও ভুট্টার মতো অধিক লাভজনক ফসলের দিকে কৃষকদের ঝুঁকে পড়ার কারণে চাষের জমিও কমেছে।

আলুর বাম্পার ফলন সত্ত্বেও কৃষকের লোকসান

বিপরীত চিত্র দেখা গেছে আলুর বাজারে। উৎপাদন ও চাষের এলাকা বাড়লেও হিমাগার সুবিধার অভাবে কৃষকরা লোকসানে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন 6666। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ১২-১৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে উৎপাদন খরচ ছিল ১৯ টাকা । কৃষকরা আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ভালো দামের আশায় তাদের উত্তোলিত আলুর ৫৯ শতাংশ হিমাগারে সংরক্ষণ করছেন।

পোল্ট্রি ও ডিমের বাজারে ঋতুভিত্তিক প্রভাব

গত ঈদুল আযহার সময় বাজারে লাল মাংসের সরবরাহ বেশি থাকায় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের চাহিদা কমে যায় । ফলে খামারিদের প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিতে গড়ে ১২ টাকা এবং প্রতিটি ডিমে ০.৮১ টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। তবে বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব ফিড মিল থাকায় ক্ষুদ্র খামারিদের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুপারিশমালা

বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং কৃষকদের সুরক্ষা দিতে প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে:

  • আর্থিক সহায়তা: পেঁয়াজ ও আলু সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণে কৃষকদের ৪ শতাংশ সুদে বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন (Refinance) ঋণ সুবিধা প্রদান।
  • ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP): ক্ষুদ্র খামারিদের বাজার অস্থিরতা থেকে রক্ষা করতে পোল্ট্রি খাতে “সর্বনিম্ন বাজার মূল্য” নির্ধারণ করা।
  • শুল্ক সমন্বয়: চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরু চাল আমদানির ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার এবং পোল্ট্রি খাদ্যের কাঁচামাল আমদানিতে কর কমানো।
  • অবকাঠামো উন্নয়ন: ধান শুকানোর জন্য অটোমেটেড ড্রায়ার স্থাপন এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণে আধুনিক বায়ুপ্রবাহ প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ।

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, যদিও মোটা চালের বাজার আগামীতে কিছুটা নমনীয় হতে পারে, তবে সরু চালের দামের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।