সোমবার ৬ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
১২,০০০ মেগাওয়াট বাড়তি সক্ষমতার বোঝা রেখে গেছে বিগত সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ দিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান বিডা চেয়ারম্যানের<gwmw style="display:none;"></gwmw> রপ্তানি উৎসাহিত করতে ৪৩ খাতে নগদ সহায়তা ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> বৈশ্বিক ধাক্কা সত্ত্বেও অর্থবছর ২৬-এ রপ্তানি আয় ৪৮ বিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল, জুনে ২৫.৯১ শতাংশ রেকর্ড প্রবৃদ্ধি অর্থবছরের বাজেট সময়োপযোগী ও কল্যাণমুখী: হেফাজতে ইসলাম নেতা মাওলানা করিম কল্যাণমুখী ব্যাংকিংয়ের স্লোগানে ইসলামী ব্যাংকে ‘গ্রাহক সেবা মাস’ শুরু ইপিজেডগুলোতে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের লক্ষ্যে বেপজার বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু সরকারের বড় ঘোষণায় কাটছে আস্থা সংকট, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ইসলামী ব্যাংক

১২,০০০ মেগাওয়াট বাড়তি সক্ষমতার বোঝা রেখে গেছে বিগত সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ৬ জুলাই (বিডিইকোনমি): বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দেশের বিদ্যুৎ খাত বর্তমানে বড় ধরনের দায় ও লোকসানের বোঝা বইছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম। এর মধ্যে অতিরিক্ত ১২,০০০ মেগাওয়াট উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার জন্য গুনতে হচ্ছে বিপুল অংকের ক্যাপাসিটি চার্জ বা কেন্দ্র ভাড়া।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর আবদুল গনি রোডের বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে ‘অনৈতিক’ বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির আওতায় সই হওয়া বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (আইপিপি) বিদ্যুতের শুল্ক বা ট্যারিফ পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।

একই সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বিলের অসঙ্গতি ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ। মে মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে জুন মাসে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আসার যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।

সচিব সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ প্রকাশের আগে তা যেন যাচাই-বাছাই করে নেওয়া হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদন্তে দেখা গেছে, অতি সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদ ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। তবে একই সাথে তিনি অনুসন্ধানী ও গঠনমূলক সাংবাদিকতাকে স্বাগত জানান, যা বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রয়োজনীয় সংশোধনী পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করে।

বিল সংক্রান্ত জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে বিদ্যুৎ সচিব জানান, গ্রাহকদের যদি তাদের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ বা অভিযোগ থাকে, তবে তারা যেন নিজ নিজ বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির কাস্টমার সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করেন। বিদ্যুৎ বিল পুনঃনিরীক্ষণ, মিটার পরীক্ষা এবং বিল সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিলম্বে বিল পরিশোধের জরিমানার নিয়ম স্পষ্ট করে মিরানা মাহরুখ বলেন, এর আগে প্রতি মাসের বিলম্বের জন্য ২ শতাংশ হারে চক্রবৃদ্ধি সুদ ধার্য করা হতো। তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে এই নীতি সংশোধন করা হয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বিলম্বে বিল পরিশোধের জন্য মোট বিলের ওপর মাত্র এককালীন ৫ শতাংশ বিলম্ব ফি বা লেট ফি প্রযোজ্য হবে।

মিটার ভাড়ার ব্যাখ্যা দিয়ে বিদ্যুৎ সচিব জানান, দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি গ্রাহকদের এককালীন মূল্য অথবা মাসিক কিস্তির মাধ্যমে মিটার সরবরাহ করে থাকে। যারা এককালীন পুরো টাকা দিয়ে মিটার নেন, তাদের কোনো অতিরিক্ত ফি দিতে হয় না। আর যারা কিস্তি সুবিধা নেন, তাদের সিঙ্গেল-ফেজ মিটারের জন্য মাসে ৪০ টাকা এবং থ্রি-ফেজ মিটারের জন্য ২৫০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। এছাড়া চারটি বিতরণ কোম্পানি গ্রাহকদের উন্মুক্ত বাজার থেকে অনুমোদিত প্রি-পেইড মিটার কেনার সুযোগ দিচ্ছে।

গ্রাহকদের দাবির প্রেক্ষিতে মিটার ভাড়ার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে এবং এ বিষয়ে খুব শীঘ্রই সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

বিদ্যুৎ বিভাগ জনগণের স্বার্থ রক্ষা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ খাতকে আর্থিকভাবে টেকসই করতে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের শুধু ব্যক্তিগত মন্তব্যের ওপর নির্ভর না করে বিদ্যমান নিয়মকানুন ও তথ্য ভালোভাবে যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়। একই সাথে নাগরিকদের যেকোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করা হয় যে, আবেগের বশে বিদ্যুৎকেন্দ্রে বা স্থাপনায় ভাঙচুর চালালে তা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত করবে এবং জনগণের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম বক্তব্য রাখেন।