বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
নতুন সংসদ সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রশিক্ষণে সহায়তা দিতে প্রস্তুত ইউএনডিপি আজারবাইজানে সিইসিএ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সার্কফাইন্যান্সের কার্যক্রম জোরদার ও ভুটানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কোর ব্যাংকিং সিস্টেম আপগ্রেড: টানা ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে সোনালী ব্যাংকের সব ব্যাংকিং সেবা সোনালী ব্যাংকের ৭ হাজার কোটি টাকার ধারে বৃহস্পতিবার থেকে স্বাভাবিক লেনদেনে ফিরছে ন্যাশনাল ব্যাংক বায়োটেকনোলজিতে যৌথ ডিগ্রি ও উচ্চতর গবেষণা বাড়াতে বাউবি ও এনআইবির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র জমাসের সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত করল পেট্রোবাংলা আইএমএফের পূর্বাভাস: ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৩.২ শতাংশ হতে পারে, মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশে ওঠার আশঙ্কা ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশের নিট এফডিআই বেড়েছে ১২.৭৮ শতাংশ, মূল চালিকাশক্তি পুনর্বিনিয়োগকৃত আয়

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বেসরকারি ঋণের প্রবাহ বাড়াতে আগামী বাজেটে ব্যাংক ঋণ কমাচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি ইকোনমি ঢাকা: দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বেসরকারি খাতে ঋণের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস, বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার কৌশলগত পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বাজেট প্রণয়নের সাথে জড়িত এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেটের আকার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এই বাজেটে সম্ভাব্য ঘাটতি ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। তবে এই ঘাটতি মেটাতে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মাত্র ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এটি চলতি অর্থবছরের সংশোধিত অভ্যন্তরীণ ঋণ লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার চেয়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা কম।

বৈদেশিক অর্থায়নের দিকে ঝুঁকছে সরকার স্থানীয় ব্যাংকগুলোর ওপর থেকে চাপ কমাতে এবং বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার এখন দীর্ঘমেয়াদি ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী আন্তর্জাতিক ঋণের দিকে ঝুঁকছে। আগামী অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৬৩ হাজার কোটি টাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, সরকারের ব্যাংক ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমে এলে ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত তহবিল থাকবে, যা শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করা যাবে। এছাড়া, অতীতে অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণ নেওয়া এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক টাকা ছাপানোর ফলে যে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছিল, এই কৌশলের কারণে তাও অনেকাংশে প্রশমিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বড় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও সংস্কার পরিকল্পনা অভ্যন্তরীণ ঋণ কমানোর ফলে তৈরি হওয়া ঘাটতি পুষিয়ে নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে এনবিআর ব্যাপক সংস্কারের হাত দিয়েছে। এর মধ্যে করের আওতা বাড়ানো, বিভিন্ন খাতের ভ্যাট অব্যাহতি (VAT exemption) প্রত্যাহার করা, অনলাইন গেমিং ও বিলাসী পণ্যের ওপর করের হার বাড়ানো এবং ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও তারল্য বৃদ্ধি করার মতো বিষয়গুলো অন্যতম।

অর্থনীতিবিদরা সরকারের এই পরিকল্পনাকে কাগজে-কলমে স্বাগত জানালেও সতর্ক করে বলেছেন, এর সফল বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড়ের গতি এবং এনবিআরের উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সক্ষমতার ওপর।

সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ সতর্ক করে বলেন, এনবিআর যদি কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়, তবে অর্থবছর শেষে সরকার আবারও ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে বাধ্য হতে পারে, যা আর্থিক খাতকে নতুন করে অস্থিতিশীলতার ঝুঁকিতে ফেলবে।

এজন্য তিনি অর্থবছরের শুরু থেকেই কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা এবং নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।