শুক্রবার ৮ মে, ২০২৬
সর্বশেষ:
বাংলাদেশ ব্যাংকের আধুনিকায়নে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসা পুনর্গঠনে নীতিগত সহায়তার মেয়াদ বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক পরিবহন খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় একীভূত নীতিমালা জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট: দোকান মালিক সমিতি পোশাক খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিজিএমইএ ও আইভি ডিকার্ব-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর তেল-গ্যাসের পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়: নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের সৌদি তেলের জাহাজ বন্দরে: পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ভুক্তভোগী আমানতকারীদের মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন প্রতিবাদ মূল শিরোনাম: দেশে ফের বাড়ল মূল্যস্ফীতি, এপ্রিলে দাঁড়িয়েছে ৯.০৪ শতাংশে

বাংলাদেশ ব্যাংকের আধুনিকায়নে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি আধুনিক, প্রযুক্তি-নির্ভর এবং শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার মিজ সারাহ কুক।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানী মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর জনাব মোস্তাকুর রহমানের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আর্থিক খাতের সংস্কার ও সম্পদ পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব

বৈঠকে আর্থিক খাতের আধুনিকায়ন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ এবং বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার।

পাচারকৃত সম্পদ ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন। এছাড়া ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ‘ব্যাংক রেজুলুশন অ্যাক্ট’-সহ বিভিন্ন আইনি সংস্কারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

ডিজিটাল যাচাইকরণ ও অভিবাসন রোধ

আর্থিক নিরাপত্তার পাশাপাশি ডিজিটাল সংহতি বাড়াতে বৈঠকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়:

  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট ডিজিটাল যাচাইকরণ: ভিসা আবেদনের সাথে জমা দেওয়া ব্যাংক স্টেটমেন্টের সত্যতা ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাই করার ব্যবস্থা চালু করা, যাতে জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হয়।
  • অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ: জাল নথিপত্র ব্যবহার এবং অবৈধ অভিবাসন বন্ধে যৌথভাবে কাজ করা।
  • এফএটিএফ মূল্যায়ন: আসন্ন ‘ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স’ (FATF)-এর মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং বৈশ্বিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি গ্রহণ।

ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ার লক্ষ্য

গভর্নর জনাব মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্তরাজ্যের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ‘ক্যাশলেস সোসাইটি’ বা নগদবিহীন সমাজ এবং একটি শক্তিশালী ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

গভর্নর আরও উল্লেখ করেন, “আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান, স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি বিষয়ক পরামর্শক ফারহানুল গণি চৌধুরী এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি হিসেবে মিস এমা উইন্ড ও ইসাম মোসাদ্দেক উপস্থিত ছিলেন।