বৃহস্পতিবার (৭ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
আবেদনের নতুন সময়সীমা
সার্কুলারে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতারা তাদের ব্যবসা পুনর্গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আগামী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। এই সুবিধাটি মূলত বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭ (সেপ্টেম্বর ২০২৫)-এর আওতাভুক্ত।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, যেসব ঋণগ্রহীতা ইতোমধ্যে এই সার্কুলারের আওতায় বা “নীতি সহায়তা সংক্রান্ত বাছাই কমিটি”র মাধ্যমে সুবিধা গ্রহণ করেছেন, তারা নতুন করে আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিলিকরণ সুবিধা
নতুন নীতিমালায় ঋণের শ্রেণিভেদে সুবিধার ভাগ করা হয়েছে:
- অশ্রেণিকৃত ঋণ: ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত যেসব ঋণ নিয়মিত বা এসএমএ (SMA) পর্যায়ে থাকবে, তারা বিশেষ পুনর্গঠন সুবিধা পাবেন।
- শ্রেণিকৃত ঋণ: ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত যেসব ঋণ সাব-স্ট্যান্ডার্ড (SS), ডাউটফুল (DF) বা মন্দ/ক্ষতি (B/L) হিসেবে চিহ্নিত, তারা বিশেষ পুনঃতফসিলিকরণ সুবিধা পাবেন।
- নিষ্পত্তির সময়সীমা: আবেদন পাওয়ার পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে ব্যাংকগুলোকে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। যদি ডাউন পেমেন্ট চেক বা অন্য কোনো মাধ্যমে দেওয়া হয়, তবে তা নগদায়নের পর থেকে ৩ মাস গণনা শুরু হবে।
এক্সিট পলিসি ও প্রভিশন সংরক্ষণ
পূর্ববর্তী ‘এক্সিট পলিসি’ বা ঋণ থেকে বের হয়ে যাওয়ার নীতিমালায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী:
- এক্সিট (এসএমএ): বিশেষ এক্সিট সুবিধা পাওয়া ঋণগুলোকে ‘এক্সিট (এসএমএ)’ হিসেবে প্রদর্শন করতে হবে এবং এর বিপরীতে সাধারণ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে।
- আয় খাতে স্থানান্তর নয়: ঋণের বিপরীতে আগে থেকে সংরক্ষিত ‘স্পেসিফিক প্রভিশন’ বা বিশেষ সঞ্চিতি ব্যাংকের আয় খাতে নেওয়া যাবে না, যতক্ষণ না ঋণের টাকা প্রকৃতপক্ষে আদায় হচ্ছে।
- নতুন ঋণে নিষেধাজ্ঞা: কোনো প্রতিষ্ঠান এই এক্সিট সুবিধা গ্রহণ করলে, সম্পূর্ণ দেনা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে তারা নতুন কোনো ঋণ সুবিধা নিতে পারবে না।
তৎক্ষণাৎ কার্যকর
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫(১)(ঘ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। বিআরপিডি পরিচালক গাজী মো. মাহফুজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই সার্কুলারটি ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।