নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা— সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি (এসআইবিএল) ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’ (Sammilito Islamic Bank) থেকে বেরিয়ে পুনরায় একটি স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে কার্যক্রম শুরু করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে।
ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হক গত সোমবার এই আবেদন জমা দেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে একীভূত হওয়া শরীয়াহ-ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম কোনো ব্যাংকের আলাদা হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রচেষ্টা।
সাম্প্রতিক ‘ব্যাংক রেজোলিউশন আইন, ২০২৬’-এর ১৮(ক) ধারার অধীনে এই আবেদন করা হয়েছে। এই ধারাটি সাবেক শেয়ারহোল্ডারদের ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার একটি আইনি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
সম্প্রতি বিলুপ্ত হওয়া বোর্ডের পরিচালক জাবেদুল আলম চৌধুরী বলেন, “আমরা নতুন আইনের ১৮(ক) ধারার বিধান অনুযায়ী আবেদন করেছি। সাবেক পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের পূর্ণ সম্মতিতে তাদের পক্ষ থেকে এই আবেদন করা হয়েছে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আবেদন প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আবেদনটি সংশ্লিষ্ট বিভাগে পৌঁছালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই মুহূর্তে বিস্তারিত মন্তব্য করার সময় আসেনি।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ ডিসেম্বর সংকটে থাকা পাঁচটি শরীয়াহ-ভিত্তিক ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এসআইবিএল—কে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’ গঠন করেছিল সরকার। ব্যাপক অর্থপাচার, উচ্চ খেলাপি ঋণ (NPL) এবং তীব্র তারল্য সংকটের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
প্রক্রিয়াটি শুরুর সময় গত ৫ নভেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য ‘শূন্য’ ঘোষণা করেছিল। তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, ব্যাংকগুলোর দায়ের পরিমাণ সম্পদের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তাদের ইকুইটি ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে।
স্বতন্ত্র হওয়ার প্রস্তাবে এসআইবিএল-এর সাবেক পরিচালকরা আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, তারল্য বৃদ্ধি এবং নতুন মূলধন সংগ্রহের একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো হলো:
- খেলাপি ঋণ হ্রাস: চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি।
- সরকারি তহবিল: স্থগিত থাকা ২২টি সরকারি হিসাব পুনরায় সচল করার মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা।
- তারল্য সহায়তা: কার্যক্রম স্থিতিশীল করতে আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ১১,০০০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তার আবেদন।
আবেদনটিতে সাবেক পরিচালক হাকিম মো. ইউসুফ হারুন ভূঁইয়া, সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, আফিয়া বেগম এবং জাবেদুল আলম চৌধুরীসহ অন্যান্যরা স্বাক্ষর করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তটি ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’-এর অধীনে থাকা অন্য চারটি ব্যাংকের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।