মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
৩ মাস পর ইতিবাচক ধারায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিনিয়োগ তিন শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ-দ্বীন হাসপাতাল বৃষ্টির অজুহাতে ঢাকার বাজারে কাঁচামরিচের দাম হু হু করে বাড়ছে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে বিনিয়োগে জোর সরকারের: শামা ওবায়েদ এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডে সরবরাহ তলানিতে: গভীর হচ্ছে গ্যাস সংকট, বাসাবাড়িতে হাহাকার অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ৭ হাজার: বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিভাগীয় মামলা ২ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সুইসটেল’ হোটেল হচ্ছে না, ৮০০ কোটি টাকায় ভবনটি কিনছে পূবালী ব্যাংক ইডিএফ ঋণের মেয়াদ বাড়িয়ে ২৭০ দিন করার সুযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মাস্টার সার্কুলার জারি

তামাকপণ্যের কর বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়িয়ে জাতীয় বাজেটকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত পণ্যের ওপর কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাকপণ্যের কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইআরএফ এবং ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডর্প) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

রাজস্ব আদায় ও সুশাসনের অভাব পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো কর কাঠামোর বাইরে রয়ে গেছে। এনবিআরের ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ডিজিটাইজেশনের নামে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও তা যথাযথভাবে কাজ করছে না, যা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরির বদলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ঘটাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, ঋণনির্ভর উন্নয়ন নয়, বরং অভ্যন্তরীণ আয় বাড়িয়ে দেশকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।

তামাক নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমিকের অধিকার জোনায়েদ সাকি বলেন, তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমাতে এর ভিত্তি মূল্য (base price) এমন পর্যায়ে নেওয়া প্রয়োজন যাতে তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। তবে এটি করার সময় তামাক চাষি ও বিড়ি শ্রমিকদের অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, তামাক কোম্পানিগুলো শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে পণ্যের দাম কম রাখার চেষ্টা করে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হলে পণ্যের দাম স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে, যা তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে পরোক্ষভাবে সহায়তা করবে।

অবৈধ বাজার ও রাজস্ব ফাঁকি তামাক খাতের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে ‘নকল ব্যান্ডরোল’ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বিদেশ থেকে নকল ব্যান্ডরোল ছাপিয়ে এনে ব্যবহারের ফলে সরকার বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। এই লিকেজ বন্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের অভিমত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনবিআরের প্রথম সচিব (মূসক নীতি) মো. মশিউর রহমান জানান, ২০২৪ সালের কর পদক্ষেপের পর দেশে সিগারেটের সরবরাহ কমেছে যা একটি ইতিবাচক দিক। তিনি খুচরা পর্যায়ে সিগারেট বিক্রি নিয়ন্ত্রণে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা এবং ট্র্যাকিং অ্যান্ড ট্রেসিং পদ্ধতি আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেন।

গবেষণাপত্র উপস্থাপনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল জানান, বাংলাদেশের সিগারেট বাজারের ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের দখলে। তিনি এই দুই স্তরকে একীভূত করে উচ্চ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেন।

সেমিনারে সাবেক সচিব মো. আজহার আলী তালুকদার জানান, তামাক খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের চেয়ে এর স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারকে দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় করতে হয়।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ডর্পের প্রধান নির্বাহী এএইচএম নোমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।