শনিবার ২৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ:
আসন্ন বাজেটে পরোক্ষ করের ফাঁদ: অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়ার আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশ করার দাবি এনডিএফের<gwmw style="display:none;"></gwmw> বাংলাদেশ সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিলে কার্যকর অংশীদারিত্বে এগিয়ে আসবে নিউজিল্যান্ড: বিজিএমইএ-এর সঙ্গে বৈঠকে হাইকমিশনার রাজধানীতে দেশের প্রথম ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড রিপোর্টিং সম্মেলন বুধবার<gwmw style="display:none;"></gwmw> অনলাইন সহিংসতা দেশে ৬৩.৫% নারী ডিজিটাল সহিংসতার শিকার: গণমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার তাগিদ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বেসরকারি ঋণের প্রবাহ বাড়াতে আগামী বাজেটে ব্যাংক ঋণ কমাচ্ছে সরকার ঈদুল আজহায় টানা ৭ দিন ব্যাংক বন্ধ, পোশাক শিল্প ও বন্দর এলাকায় সীমিত আকারে খোলা ঢাবিতে বিশ্ব আবহাওয়া দিবস পালিত: টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার আহ্বান বিজিএমইএ সদস্যদের জন্য মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের বিশেষ ‘প্রিভিলেজ কার্ড’ চালু

রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল বাড়িয়ে ৫০০ কোটি ডলার করার দাবি এফবিসিসিআইয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আকার দ্বিগুণ করে ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে উন্নীত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের এক বৈঠকে এই দাবি জানানো হয়।

বৈঠকে এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদল ব্যবসা পরিচালনার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে ‘সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট’ বা একক গ্রাহকের ঋণসীমা বর্তমানের ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়। এছাড়া ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অঙ্কের ঘরে (Single Digit) রাখা এবং ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বিধিমালা শিথিল করারও দাবি জানান তারা।

গভর্নরের কাছে জমা দেওয়া এক লিখিত প্রস্তাবে এফবিসিসিআই উল্লেখ করে যে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ফলে শিল্প কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি, জ্বালানি ও পরিবহণ ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, “মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত জ্বালানি সরবরাহ, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।” একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদাও নিম্নমুখী চাপের মুখে রয়েছে বলে জানানো হয়।

বেসরকারি খাতের মূল সুপারিশসমূহ:

  • ব্যাংকিং খাতের সংস্কার: ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে এফবিসিসিআই। পাচার হওয়া টাকা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ব্যাংক একীভূতকরণের সময় আমানতকারী ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে।
  • ডলার ও এলসি সহায়তা: উৎপাদন ও বাণিজ্য সচল রাখতে মার্কিন ডলারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, স্থিতিশীল বিনিময় হার এবং এলসি (LC) খোলার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানানো হয়েছে।
  • ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ: বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ধুঁকতে থাকা শিল্পগুলোর জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের সময়সীমা বিদ্যমান ৩ মাস থেকে বাড়িয়ে ৬ মাস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
  • এসএমই ও নারী উদ্যোক্তা: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং সুবিধা বৃদ্ধি, ডেডিকেটেড হেল্পডেস্ক এবং জামানতবিহীন ঋণের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • গ্রিন ফাইন্যান্সিং: জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে স্বল্প সুদে ঋণের সুপারিশ করা হয়েছে।
  • প্রশাসনিক তদারকি: শিল্প খাতের ব্যাংকিং সংক্রান্ত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই।

ব্যবসায়ী নেতারা বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ ঠিক রাখতে সরকারকে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ গ্রহণ কমানোর অনুরোধ জানান। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে রেমিট্যান্সের ওপর বিদ্যমান প্রণোদনা অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানানো হয় বৈঠকে।