বুধবার ১ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ:
প্রবাসী আয়ে নতুন ইতিহাস: মার্চে এলো রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ডলার<gwmw style="display:none;"></gwmw> সব ব্যাংকে ‘বাংলা কিউআর’ চালুর সময়সীমা জুন পর্যন্ত নির্ধারণ রপ্তানি ভর্তুকি অডিটের জন্য ৭টি সিএমএ ফার্মকে তালিকাভুক্ত করল বাংলাদেশ ব্যাংক সমাজে পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব নারীদের সৃষ্টিশীল শক্তিকে বাধাগ্রস্ত করছে : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী<gwmw style="display:none;"></gwmw> মার্চে রেকর্ড ৩.৬২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স; বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার<gwmw style="display:none;"></gwmw> ২৪ ঘণ্টায় দেশব্যাপী ৮৭,৭০০ লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দ<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে শিক্ষামন্ত্রীকে বিকল্প খুঁজতে বললেন প্রধানমন্ত্রী<gwmw style="display:none;"></gwmw> জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১০ দিনে দেশে আসছে ১.৯২ লাখ টন এলএনজি নতুন নোটের সংকটে আবারও বাজারে ফিরছে বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত টাকা

প্রবাসী আয়ে নতুন ইতিহাস: মার্চে এলো রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : সদ্য বিদায়ী মার্চ ২০২৬ মাসে দেশে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এই মাসে প্রবাসীরা মোট ৩৭৫ কোটি (৩.৭৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ আসার রেকর্ড।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই মাসের তুলনায় এই আয় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে প্রবাসী নাগরিকদের বাড়তি ব্যয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে প্রবাসীরা দেশে বেশি করে অর্থ পাঠিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মাসিক রেমিট্যান্সের রেকর্ড ছিল গত বছরের মার্চ মাসে, যার পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ডলার। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য মাইলফলকের মধ্যে রয়েছে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি ডলার এবং এ বছরের জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে স্থানীয় টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে আরও উৎসাহিত করেছে।

অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ও রিজার্ভ পরিস্থিতি

রেমিট্যান্সের এই সন্তোষজনক প্রবাহ সত্ত্বেও আঞ্চলিক সংঘাত আরও বাড়লে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এক সভায় আটজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত ধরে রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, বৈশ্বিক এই সংকটের মাত্রা কতটা গভীর হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত ডলার ও রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করবে। তাঁরা এখনই নীতি সুদহার (Policy interest rate) কমানোর বিপক্ষে মত দিয়েছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন যে মূল্যস্ফীতির চাপ কমলেই কেবল বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের মূল তথ্য:

  • আয়ের উৎস: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট প্রবাসী আয়ের অর্ধেকই আসে উপসাগরীয় ছয়টি দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, ওমান, বাহরাইন ও কুয়েত থেকে।
  • বিকল্প উৎস: সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি কমাতে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
  • মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়লেও দেশে মূল্যস্ফীতির হার যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য এখনই সেই চাপ গ্রাহক পর্যায়ে না চাপানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদকদের জন্য তথ্যচিত্র:

সময়কালরেমিট্যান্সের পরিমাণঅবস্থা
মার্চ ২০২৬৩৭৫ কোটি ডলারসর্বকালের রেকর্ড
মার্চ ২০২৫৩২৯ কোটি ডলারপূর্ববর্তী রেকর্ড
ডিসেম্বর ২০২৫৩২২ কোটি ডলার৩য় সর্বোচ্চ
জানুয়ারি ২০২৬৩১৭ কোটি ডলার৪র্থ সর্বোচ্চ