নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে এই ইতিবাচক তথ্য জানান তিনি। গভর্নর বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাসেই রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করবে।
ভঙ্গুরতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতার পথে অর্থনীতি
গভর্নর স্বীকার করেন যে, অতীতে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে, যা পুরোপুরি সংশোধন করতে সময়ের প্রয়োজন। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া সংস্কারমূলক উদ্যোগের ওপর তিনি আস্থা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “অর্থনীতির ভঙ্গুরতা এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি, তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে। আমি আশাবাদী যে, নির্বাচিত সরকার এই অত্যাবশ্যকীয় সংস্কার কার্যক্রমগুলো এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সূচকগুলো নিয়ে গভর্নর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন:
- মূল্যস্ফীতি: মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা এখনও অর্জিত না হলেও, এই লক্ষ্য অর্জনে নিরলস প্রচেষ্টা চলছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
- বিনিয়োগ বৃদ্ধি: দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো অপরিহার্য। এজন্য পরবর্তী সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রিজার্ভ বৃদ্ধির নেপথ্যে
বাংলাদেশ ব্যাংক এখন আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে রিজার্ভ থেকে সরাসরি ডলার বিক্রি করছে না। ফলে রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে রিজার্ভের পরিমাণ প্রাকৃতিকভাবেই বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কৌশলগত পরিবর্তন রিজার্ভের ভাণ্ডারকে আরও শক্তিশালী করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংবাদের মূল বিষয়সমূহ (Key Takeaways):
- রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা: বছর শেষে ৪০ বিলিয়ন ডলার।
- বর্তমান অবস্থা: চলতি মাসে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর সম্ভাবনা।
- সংস্কার: ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম দূর করতে দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের ওপর জোর।
- মূল্যস্ফীতি: ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য।