ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি: দীর্ঘ নয় মাসের নিবিড় আলোচনার পর আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিজিএমইএ-র পক্ষ থেকে এই চুক্তিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে।
এই মাইলফলক অর্জনে বিজিএমইএ যুক্তরাষ্ট্র সরকার, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এছাড়া ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং অফিস অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভকে (ইউএসটিআর) তাদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
চুক্তির প্রধান দিকসমূহ:
- পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস: প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত পারস্পরিক শুল্ক (Reciprocal Tariff) ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে।
- শুল্কমুক্ত সুবিধা: যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা (Cotton) এবং ম্যান-মেইড ফাইবার (কৃত্রিম তন্তু) ব্যবহার করে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ওপর কোনো শুল্ক দিতে হবে না।
- বাজার সম্প্রসারণ: বিজিএমইএ মনে করে, এই ব্যবস্থার ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রবেশাধিকার আরও সহজ হবে। তবে এই সুবিধা কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য মার্কিন কাঁচামালের সঠিক মূল্যায়ন এবং উৎস নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
বিজিএমইএ জানিয়েছে যে, মার্কিন তুলার মান অত্যন্ত উন্নত হলেও এর দাম তুলনামূলক বেশি। তাই স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো যদি প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সুতা সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে, তবে রপ্তানির বড় সুযোগ তৈরি হবে।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে যে, তারা এখনও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলী আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে পায়নি। সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত নথি পাওয়ার পর বিজিএমইএ সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে ইউএসটিআর ও মার্কিন দূতাবাসের সাথে আলোচনা করবে।