নিউ ইয়র্ক: দীর্ঘ এক দশক ধরে বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে থাকা সফটওয়্যার খাতের ওপর থেকে মোহভঙ্গ হচ্ছে ওয়াল স্ট্রিটের। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর ক্রমবর্ধমান দাপটে প্রথাগত সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ফলে গত এক বছরে সেলসফোর্স (Salesforce), অ্যাডোবি (Adobe) এবং সার্ভিসনাউ (ServiceNow)-এর মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম ৩০ শতাংশের বেশি কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন সফটওয়্যার খাতের বদলে সরাসরি এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে বেশি আগ্রহী। বিশেষ করে ‘ভাইব কোডিং’ (Vibe Coding)—যেখানে এআই টুল ব্যবহার করে দ্রুত অ্যাপ বা ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়—এই প্রবণতা সফটওয়্যার শিল্পের মূল ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে।
সংকটের মূল কারণসমূহ:
- এআই টুলসের উত্থান: অ্যানথ্রোপিক-এর ‘ক্লদ কোড’ (Claude Code)-এর মতো শক্তিশালী এআই টুল আসার পর জটিল সফটওয়্যার তৈরির সময় ও খরচ নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন আর বিশেষজ্ঞ সফটওয়্যার কোম্পানির ওপর নির্ভর না করে নিজেরাই এআই দিয়ে প্রয়োজনীয় টুল বানিয়ে নিতে পারছে।
- বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: এক সময় মনে করা হতো সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোই এআই থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। কিন্তু আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশ্লেষক ঋষি জালুরিয়া বলেন, “এখন বিনিয়োগকারীরা প্রশ্ন তুলছেন—এআই কি তবে সফটওয়্যার শিল্পের মৃত্যু ঘটাবে?”
- ঋণের বোঝা ও খেলাপি: গত দুই বছরে অন্তত ১৩টি সফটওয়্যার কোম্পানি তাদের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। সুদের হার বৃদ্ধি এবং বাজার প্রতিযোগিতার কারণে এই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আগের মতো লাভজনক অবস্থানে নেই।
ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট
যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন না যে সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে, তবে তাদের আয় বাড়ানোর পথ আগের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্রাহকরা এখন নিয়মিত সাবস্ক্রিপশন ফি দেওয়ার বদলে এআই-ভিত্তিক সস্তা এবং দ্রুত সমাধানের দিকে ঝুঁকছেন।
আগামী সপ্তাহে অ্যাপল, মেটা এবং মাইক্রোসফট-এর ত্রৈমাসিক আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। এই প্রতিবেদনগুলো থেকেই বোঝা যাবে বর্তমান এআই ঝড়ে টেক জায়ান্টরা কতটা টিকে থাকতে পারছে।