ওয়াশিংটন : – কাতারের রাজপরিবারের উপহার দেওয়া বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটি এই গ্রীষ্মেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী (ইউএস এয়ার ফোর্স) বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানটিকে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর মর্যাদা দিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
যদিও সরবরাহের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানানো হয়নি, তবে কর্মকর্তাদের আশা—আগামী ৪ জুলাই আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উৎসবের আগেই বিমানটি প্রেসিডেন্টের বহরে যুক্ত হতে পারে।
বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিদেশ সফরের জন্য ব্যবহৃত পুরোনো বিমানগুলোতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নতুন এই বিমানটি নিয়ে আসার প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যাওয়ার সময় মাঝ আকাশে ট্রাম্পের বহনকারী বিমানে ‘বৈদ্যুতিক গোলযোগ’ দেখা দেয়। ফলে বিমানটি আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর থেকে ঘুরিয়ে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন পাইলটরা। পরে ট্রাম্প একটি ছোট বিকল্প বিমানে করে গন্তব্যে পৌঁছান।
এই ঘটনার পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঠিকই বলেছিলেন যে বর্তমান বিমানগুলো অনেক পুরোনো হয়ে গেছে। কাতারের উপহার দেওয়া বিমানটি শুধু প্রেসিডেন্টের জন্যই নয়, পুরো এয়ার ফোর্স ওয়ান ক্রুদের জন্যই স্বস্তির হবে।”
প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক:
২০১৮ সালে বোয়িং কোম্পানির সাথে দুটি নতুন ৭৪৭ বিমান তৈরির চুক্তি হলেও যান্ত্রিক ও সরবরাহ সমস্যার কারণে সেগুলো ২০২৮ সালের আগে সরবরাহ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে বিমান বাহিনী। এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে কাতার সরকার তাদের একটি ব্যক্তিগত জাম্বো জেট উপহার হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।
টেক্সাসের ল্যাকো এলাকায় বর্তমানে এলথ্রিহ্যারিস (L3Harris) নামক একটি প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বিমানটির আধুনিকায়ন ও কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষা চালাচ্ছে। তবে ৪০০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের এই উপহার গ্রহণ নিয়ে ডেমোক্র্যাট শিবিরের আইনপ্রণেতারা নৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, এটি সরাসরি কোনো ব্যক্তিকে নয় বরং প্রতিরক্ষা বিভাগকে দেওয়া একটি অনুদান এবং এটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে।1
আগামী ৪ জুলাই ন্যাশনাল মলে আয়োজিত মেগা ইভেন্টে ট্রাম্পের প্রিয় ‘লাল, সাদা ও নীল’ রঙে রাঙানো এই নতুন ‘ফ্লাইং প্যালেস’ বা উডন্ত প্রাসাদটি প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে দেখা যেতে পারে।