দাভোস, সুইজারল্যান্ড (২১ জানুয়ারি): সুইজারল্যান্ডের দাভোসে চলমান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) বার্ষিক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের (ইউরোপ ও কানাডা) মধ্যে গভীর বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গ্রিনল্যান্ড দখল ও বাণিজ্যিক শুল্ক নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনমনীয় অবস্থানের বিপরীতে ইউরোপীয় নেতা ও কানাডা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক অবস্থান
বুধবার দাভোসে এক জনাকীর্ণ হলে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প ইউরোপের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মহাদেশটির কিছু অংশ এখন আর ‘চেনার উপায় নেই’। গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নাকচ করলেও দ্বীপটির ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। ডেনমার্ককে ‘অকৃতজ্ঞ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সুরক্ষার জন্য ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ঋণী।
এছাড়া কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকেও ট্রাম্প আক্রমণ করেন। কার্নিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই কানাডা টিকে আছে। মার্ক, পরবর্তীতে কোনো বিবৃতি দেওয়ার সময় এটা মনে রাখবেন।”
ইউরোপ ও কানাডার পাল্টা অবস্থান
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তার ভাষণে বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ‘ফাটল’ নিয়ে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় শক্তিশালী দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে অর্থনৈতিক একীকরণকে জবরদস্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে তিনি ডেনমার্কের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বলেন, কানাডা কোনোভাবেই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন শুল্ক আরোপ সমর্থন করে না।
অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব এখন ‘নিয়মবিহীন’ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে যেখানে কেবল শক্তিশালীরাই আইন নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকিকে ‘মৌলিকভাবে অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ওয়াশিংটনকে গ্রিনল্যান্ড থেকে হাত দূরে রাখতে সতর্ক করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস করা হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির বিপরীতে ইউরোপের প্রতিক্রিয়া হবে ‘অটল’।
চীনের সাথে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে কানাডা ও ইউরোপ তাদের বৈদেশিক নীতিতে বৈচিত্র্য আনার ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চীন ও কাতারের সাথে নতুন কৌশলগত অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে আরও বেশি চীনা সরাসরি বিনিয়োগের (FDI) আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে সৃষ্ট ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বাঁচতেই মিত্র দেশগুলো এখন চীনের সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।