নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পোশাক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং পণ্যের গড় দাম কমার প্রবণতা সত্ত্বেও ২০২৫ সালে বাংলাদেশ তার শক্তিশালী অবস্থান বজায় রেখেছে। ইউরোস্ট্যাটের (Eurostat) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি পৌঁছেছে ১৮.০৬ বিলিয়ন ইউরোতে।
বাজারের সার্বিক চিত্র
২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৮২.৯৪ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৯৩% বেশি। তবে এই প্রবৃদ্ধি মূলত পণ্যের পরিমাণের (Volume) ওপর ভিত্তি করে হয়েছে। আমদানিকৃত পোশাকের পরিমাণ ১১.৬০% বাড়লেও, গড় একক মূল্য (Average Unit Price) কমেছে ৬.৮৮%।
বাংলাদেশের অবস্থান
ইইউ বাজারে পোশাক সরবরাহে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ১৬.৭৮ বিলিয়ন ইউরো থেকে বেড়ে ২০২৫ সালের একই সময়ে ১৮.০৬ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য রপ্তানি করেছে। অর্থাৎ রপ্তানি মূল্যে ৭.৬৫% প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি, যা আগের বছরের চেয়ে ১১.২৬% বেশি। তবে বিশ্ববাজারের চাপের মুখে বাংলাদেশের পোশাকের একক মূল্য ৩.২৫% হ্রাস পেয়েছে।
উল্লেখ্য যে, শুধু নভেম্বর মাসের তুলনায় (২০২৪ বনাম ২০২৫) রপ্তানি মূল্যে ১০.৮৭% এবং একক মূল্যে ১২.২৭% নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা পোশাক খাতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৈশ্বিক প্রতিযোগীদের অবস্থা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে চীন এখন ইউরোপের বাজারে তাদের মনোযোগ বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালের এই সময়ে ইইউতে চীনের রপ্তানি ৬.৫৫% বেড়ে ২৪.৪২ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। চীন তাদের পণ্যের পরিমাণ ১৫.৭৩% বৃদ্ধি করলেও গড় দাম কমিয়েছে ৭.৯৩%।
অন্যদিকে, ভিয়েতনাম ৪.১৯% একক মূল্য বৃদ্ধি করে ৪.০২ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য রপ্তানি করেছে (প্রবৃদ্ধি ১০.১০%)। বিপরীতে তুরস্কের রপ্তানি ১১.৩১% কমে ৭.৬৬ বিলিয়ন ইউরোতে নেমে এসেছে। ভারত, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়াও এই সময়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত
এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ-এর সাবেক পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় যে বিশ্ববাজারে ভলিউম বাড়লেও মার্জিন কমে আসছে। চীনের কৌশলগত অবস্থান এবং নভেম্বর মাসের নিম্নমুখী প্রবণতা নির্দেশ করে যে, আগামীতে টিকে থাকতে হলে আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মূল্যের ভারসাম্য বজায় রাখার দিকে আরও নজর দিতে হবে।”