নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : আবাসন ও রেল খাতের বিশেষ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নের লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার শরিয়াহভিত্তিক বন্ড ‘বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট স্পেশাল সুকুক-১’ ইস্যু করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীনে গঠিত শরীয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটির সাম্প্রতিক এক সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ঢাকা, ১২ জানুয়ারি ২০২৬: আবাসন ও রেল খাতের বিশেষ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নের লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার শরিয়াহভিত্তিক বন্ড ‘বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট স্পেশাল সুকুক-১’ ইস্যু করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীনে গঠিত শরীয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটির সাম্প্রতিক এক সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বন্ডটির কাঠামো ও শরিয়াহ নীতিমালার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সুকুক বন্ডের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন অবকাঠামো এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ফান্ড সংগ্রহের লক্ষ্যে এই শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- মোট মূল্য: ১০,০০০ কোটি টাকা।
- মেয়াদ: ১০ বছর।
- মুনাফার হার: বার্ষিক ৯.৭৫ শতাংশ।
- পদ্ধতি: শরীয়াহ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্ডটি ‘ইজারা’ বা লিজ পদ্ধতির ভিত্তিতে ইস্যু করা হবে।
যেসব প্রকল্পে ব্যয় হবে এই অর্থ:
বন্ডের মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ প্রধানত দুটি খাতে ব্যয় করা হবে:
১. সরকারি আবাসন প্রকল্প: গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৭টি আবাসন প্রকল্পের অর্থায়নে এই টাকা ব্যবহৃত হবে।
২. রেলপথের উন্নয়ন: বাংলাদেশ রেলওয়ের আওতাভুক্ত নির্দিষ্ট কিছু ট্রেন ও রেল পরিষেবার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামো সম্প্রসারণে এই ফান্ড সহায়তা করবে।
ইস্যু করার সময় ও পদ্ধতি:
আগামী ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ‘স্পেশাল সুকুক-১’ আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্যু করা হবে। এটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ (Sammilito Islamic Bank PLC)-এর অনুকূলে ইস্যু করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সংকটে থাকা ৫টি ইসলামী ব্যাংক (এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক) একীভূত করে এই নতুন ব্যাংকটি গঠন করা হয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে একদিকে যেমন সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে বড় অংকের দীর্ঘমেয়াদি ও সুদবিহীন অর্থ সংস্থানের পথ তৈরি হলো, অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্যও নিরাপদ বিনিয়োগের একটি ক্ষেত্র তৈরি হলো।