সোমবার ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
গণভোটের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা পল্লী বিদ্যুতের ৩ কোটি ৭২ লাখ গ্রাহকের কাছে যাবে ‘হ্যাঁ’ লিফলেট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ খাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা চালানো হবে আইসিএমএবি’র নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন মো. কাওসার আলম জলবায়ু পরিবর্তন ও ট্রাম্প: গণমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি বনাম বাস্তবতা গ্রিনল্যান্ড কিনতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের ১০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা লগারহেড কচ্ছপ ‘গুমুশ’-এর বিস্ময়কর যাত্রা: সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধিই কি কারণ?

শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী হয়েও কেন ভেনেজুয়েলার তেলের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র?

ওয়াশিংটন : বর্তমানে বিশ্বে অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি তেল উত্তোলন করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবুও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মনে করছেন, মার্কিন রিফাইনারি বা শোধনাগারগুলোর জন্য ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল অপরিহার্য। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি বৈপরীত্য মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে গভীর কারিগরি ও অর্থনৈতিক কারণ।

তেলের ধরণ ও শোধনাগারের সীমাবদ্ধতা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বা নর্থ ডাকোটার খনিগুলো থেকে যে তেল উত্তোলিত হয়, তার বেশিরভাগই ‘লাইট অ্যান্ড সুইট’ (হালকা ও কম সালফারযুক্ত) মানের। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বড় শোধনাগার কয়েক দশক আগে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যা ‘হেভি অ্যান্ড সাওয়ার’ (ভারী ও বেশি সালফারযুক্ত) তেল পরিশোধনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমাদের মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের রিফাইনারিগুলো ভারী তেল পরিশোধনে বিশ্বে সেরা। বর্তমানে বিশ্বে এই ভারী তেলের ঘাটতি রয়েছে। বেসরকারি শিল্পখাতকে সুযোগ দেওয়া হলে ভেনেজুয়েলার তেলের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হবে।”

উপকূলীয় রিফাইনারিগুলোর সংকট

আমেরিকান ফুয়েল অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স-এর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট পরিশোধন ক্ষমতার প্রায় ৭০ শতাংশই চলে ভারী তেলের ওপর নির্ভর করে। এই শোধনাগারগুলোর বেশিরভাগই মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত, যেখানে দেশের ১০টি বৃহত্তম রিফাইনারির ৯টিরই অবস্থান।

গত কয়েক বছরে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে এবং যা উৎপাদিত হচ্ছে তার বড় অংশই কিউবা ও চীনে চলে যাচ্ছে। ফলে মার্কিন শোধনাগারগুলো কাঁচামালের সংকটে রয়েছে।

আমদানির উৎস ও বর্তমান চিত্র

মেক্সিকো এবং ভেনেজুয়েলা থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মার্কিন শোধনাগারগুলো বর্তমানে কানাডার ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে কানাডা অন্য সব আন্তর্জাতিক উৎসের সম্মিলিত পরিমাণের চেয়েও বেশি তেল যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

  • মার্কিন শোধনাগারগুলোতে ব্যবহৃত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশই আমদানি করা হয় সঠিক মিশ্রণ তৈরির জন্য।
  • এই মিশ্রণ থেকেই তৈরি হয় পেট্রোল, ডিজেল, জেট ফুয়েল এবং পিচ (Asphalt)।
  • অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে উত্তোলিত অতিরিক্ত হালকা তেল দেশের বাইরে রপ্তানি করা হয়। গত এক দশকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপে তেল রপ্তানি করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার খনি থেকে পাওয়া তেলের মান মার্কিন শোধনাগারগুলোর জন্য আদর্শ। যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসে এবং বাণিজ্য সহজ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব উৎপাদন বজায় রেখেই ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি করে তাদের জ্বালানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে পারবে।