আন্তর্জাতিক ডেস্ক,ঢাকা : ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা তছনছ করে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের অভিযানে নেপথ্যে বড় ভূমিকা পালন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত ইলেকট্রনিক-ওয়ারফেয়ার বিমান ‘বোয়িং ইএ-১৮জি গ্রাউলার’ (EA-18G Growler)। গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া ১৫০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমানের বহরে এই ‘গ্রাউলার’ ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
সিগন্যাল জ্যামিং ও আকাশ প্রতিরক্ষা ধ্বংস
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রাউলার এমন একটি বিমান যা সরাসরি মানুষের ওপর নয়, বরং সিগন্যালের ওপর হামলা চালায়। এটি ভেনেজুয়েলার রাডার এবং সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল (জ্যাম) করে দিয়ে মার্কিন বিশেষ বাহিনীকে নির্বিঘ্নে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (RUSI) বিশেষজ্ঞ থমাস উইথিংটন জানান, গ্রাউলার ভেনেজুয়েলার রাডারগুলো শনাক্ত করে তা বিকল করে দিয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের শিক্ষা ও প্রযুক্তির ব্যবহার
ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন ও জ্যামিং প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের পর ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা সংকেত যুদ্ধের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। গ্রাউলার কেবল সংকেত বিচ্ছিন্নই করে না, বরং এটি শত্রুর রাডারে একাধিক কাল্পনিক বিমানের ছবি তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। এ ছাড়া এতে থাকা বিশেষ অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইল শত্রুর রাডার কেন্দ্রগুলো সরাসরি ধ্বংস করতে সক্ষম।
ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষায় মূলত পুরোনো সোভিয়েত ও রাশিয়ান তৈরি ব্যবস্থা ব্যবহৃত হতো। এর মধ্যে ছিল ১২টি এস-৩০০ (S-300) মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক নিক কানিংহামের মতে, এই ব্যবস্থাগুলো পুরোনো হওয়ায় গ্রাউলার ও এফ-৩৫-এর মতো অত্যাধুনিক মার্কিন বিমানের সামনে তা কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি।
গ্রাউলার জেটের সক্ষমতা একনজরে:
- সর্বোচ্চ গতি: ১,৩৮১ মাইল প্রতি ঘণ্টা।
- উচ্চতা: ৫০,০০০ ফুটের ওপর দিয়ে উড়তে সক্ষম।
- ক্রু: ২ জন (একজন বিশেষজ্ঞ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার পরিচালনা করেন)।
- মূল্য: ২০২১ সালের হিসেবে প্রায় ৬৭ মিলিয়ন ডলার।
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
সাবেক মার্কিন বিমান বাহিনী সচিব ফ্রাঙ্ক কেন্ডাল সতর্ক করেছেন যে, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও রাশিয়া বা চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ বর্তমানে চীন ও রাশিয়া ড্রোন নিয়ন্ত্রণে ফাইবার-অপটিক ক্যাবল বা লেজারের মতো নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে যা জ্যাম করা কঠিন।
ভেনেজুয়েলার এই সফল অভিযান প্রমাণ করল যে আধুনিক রণক্ষেত্রে সরাসরি বোমাবর্ষণের চেয়ে শত্রুর যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া অনেক বেশি কার্যকর।