নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : দেশে অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ (NEIR) বা হ্যান্ডসেট নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) বিপরীতে অজ্ঞাত ডজন ডজন, এমনকি শত শত মোবাইল ফোন নিবন্ধিত দেখা যাওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, এসব ফোন ব্যবহার করে কোনো অপরাধী চক্র বা আন্ডারওয়ার্ল্ড কোনো অপরাধমূলক কাজ করছে কি না।
গ্রাহকদের অদ্ভুত সব অভিজ্ঞতা মিরপুরের বাসিন্দা নাবিউল ইসলাম জানান, নিজের হ্যান্ডসেট যাচাই করতে পোর্টালে ঢুকে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। তার এনআইডিতে ৪৭টি ফোন নিবন্ধিত দেখাচ্ছে, অথচ জীবনে তিনি মাত্র দুটি ফোন ব্যবহার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন হাজার হাজার অভিযোগ আসছে। মাসুম বিল্লাহ ভুঁইয়া নামে এক প্রবাসী ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, তার নামে ৫৩টি হ্যান্ডসেট দেখাচ্ছে, যার মধ্যে ৪২টিই নিবন্ধিত হয়েছে গত ডিসেম্বর মাসে।
আতঙ্কের কিছু নেই, আশ্বস্ত করলেন উপদেষ্টা উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে কোনো মোবাইল ফোন বিচ্ছিন্ন করা হবে না।
তিনি ব্যাখ্যা করে জানান:
বিশাল ডেটাসেট: মোবাইল অপারেটররা গত কয়েক বছরের প্রায় ৩০০ কোটি ডেটা জমা দিয়েছে। এর মধ্যে পুরনো এবং ঐতিহাসিক তথ্যও রয়েছে।
ডেট মাইগ্রেশন: ডেটা স্থানান্তরের সময় বর্তমান তারিখ দেখাচ্ছে বলে অনেকের কাছে মনে হচ্ছে ফোনগুলো এখনই নিবন্ধিত হয়েছে। এটি পর্যায়ক্রমে ঠিক করা হবে।
সিম ব্যবহারের সীমা: আগে একজনের নামে ২০টি পর্যন্ত সিম রাখা যেত, যা পরে কমিয়ে ১৫টি এবং এখন ১০টিতে নামিয়ে আনা হচ্ছে। এই পুরনো সিমগুলোর বিপরীতে ব্যবহৃত ফোনগুলোই এখন তালিকায় দেখা যাচ্ছে।
বিটিআরসি ভবনে হামলা ও বিশৃঙ্খলা এদিকে NEIR চালুর প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি (BTRC) সদর দপ্তরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীরা সেখানে ভাঙচুর চালায় এবং একটি স্টাফ বাসে আগুন দেয়, যাতে প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় আদালত ৪৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সিস্টেমের কারিগরি ত্রুটি গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন যে, পোর্টালে ঢুকতে গেলেই সাইট ক্র্যাশ করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হঠাৎ অতিরিক্ত ট্রাফিকের কারণে সিস্টেমে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পুনরায় ‘সিকিউরিটি অডিট’ এবং নতুন এপিআই কন্ট্রোল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে এই কারিগরি জট খোলার চেষ্টা করছে। গ্রাহকদের দাবি, দ্রুত যেন এই তালিকা সংশোধন করা হয় যাতে কার নামে কয়টি ফোন চলছে তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।