নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : পৌষের শেষে এসে তীব্র শীত আর কনকনে হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে রাজধানী ঢাকাসহ সমগ্র বাংলাদেশ। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীতে এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যাওয়ায় এবং দিনভর সূর্যের দেখা না মেলায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
ঢাকায় দিন-রাতের পার্থক্য ১.৭ ডিগ্রি আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ সোমবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গতকাল ছিল ১৭.৬ ডিগ্রি। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ২ ডিগ্রির বেশি। অন্যদিকে আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.৮ ডিগ্রি। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার এই ক্ষুদ্র ব্যবধানই (মাত্র ১.৭ ডিগ্রি) ঢাকাবাসীকে তীব্র শীতের অনুভূতি দিচ্ছে। দিনভর কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ আর হিমেল বাতাসে ঘরের ভেতরেও হাড়কাঁপানো ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।
সারা দেশের শীত পরিস্থিতি ঢাকার বাইরে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ আরও ভয়াবহ। পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম ও মেহেরপুরের মতো জেলাগুলোতে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকায় দেশের অধিকাংশ এলাকায় দিনের বেলাতেও যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। নদী অববাহিকা ও গ্রামাঞ্চলে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

কৃষি ও জনজীবনে প্রভাব তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে অনেক জায়গায়। রাজধানীর বাজারগুলোতেও ক্রেতা সমাগম ছিল অন্য দিনের তুলনায় কম। অন্যদিকে, দীর্ঘস্থায়ী কুয়াশা ও সূর্যের অনুপস্থিতিতে বোরো বীজতলা ও রবি শস্যের (যেমন: আলু ও সরিষা) ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশা কেটে না যাওয়া পর্যন্ত দিনের তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা কম। উত্তর দিক থেকে আসা ঠান্ডা বাতাসের কারণে অনুভূত তাপমাত্রা প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও কম হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।