নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় পরিচয় ছাপিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম শীর্ষ নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ বার্তার মাধ্যমে তিনি এই চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত জানান। একইসঙ্গে তিনি দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিবের পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন।
পদত্যাগ ও দলীয় অবস্থান
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, ডা. তাসনিম জারা ইতিপূর্বেই দলের হাইকমান্ডের কাছে তার পদত্যাগপত্র পেশ করেছেন। এ বিষয়ে দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন গণমাধ্যমকে বলেন, “ডা. তাসনিম জারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।” তবে এর বাইরে দলীয়ভাবে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।
কেন এই স্বতন্ত্র লড়াই?
ঢাকা-৯ আসন (খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা) থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে তাসনিম জারা জানান, তার বড় হওয়া ও বেড়ে ওঠার এই এলাকার মানুষের সেবা করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে সংসদে যাওয়ার স্বপ্ন থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের হয়ে লড়ছি না।” নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি আগে দিয়েছিলেন, তা রক্ষার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার চ্যালেঞ্জগুলোও তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন। কোনো বড় দল সাথে না থাকায় স্থানীয় অফিস বা সুসংগঠিত কর্মী বাহিনীর অভাব থাকলেও তিনি সাধারণ ভোটারদের ওপরই পূর্ণ আস্থা রাখছেন।
এনসিপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া

তাসনিম জারার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে এনসিপি-র অভ্যন্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দলের কয়েকজন নারী নেতৃত্ব ফেসবুকে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন:
- সামান্তা শারমিন: লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি লিখেছেন, “আমরা লড়াই ছাড়ব না।”
- ডা. মাহমুদা মিতু: তিনি একটি কড়া স্ট্যাটাস দিলেও পরে তা মুছে ফেলেন। সেখানে তিনি পশ্চিমা এজেন্ডা ও দেশি ছদ্মবেশ নিয়ে সমালোচনা করেন।
- নুসরাত তাবাসসুম: তিনি অঙ্গীকারের ওপর জোর দিয়ে লেখেন, “নীতির চাইতে রাজনীতি বড় নয়।”
পরবর্তী পদক্ষেপ ও স্বাক্ষর সংগ্রহ
আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে ঢাকা-৯ আসনের ৪ হাজার ৬৯৩ জন ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর প্রয়োজন। আগামীকাল থেকেই এই স্বাক্ষর সংগ্রহের কঠিন চ্যালেঞ্জ শুরু করছেন ডা. জারা। এই কাজে সহায়তার জন্য তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
পাশাপাশি, যারা এর আগে তাকে বিকাশের মাধ্যমে নির্বাচনি অনুদান পাঠিয়েছিলেন, তারা চাইলে তা ফেরত নিতে পারবেন বলেও তাসনিম জারা তার পোস্টে নিশ্চিত করেছেন। এজন্য একটি নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করতে হবে।