বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ তুষারঝড়: বিটকয়েন মাইনিং ক্ষমতা কমেছে ৩৭ শতাংশ ইউরোপে টেসলার বড় ধস: বিক্রি কমেছে ৩৮ শতাংশ, বাজার দখলে এগোচ্ছে চীনা বিওয়াইডি প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস কমিটির প্রতিবেদন বিজয়ী হলে প্রতিশোধ নয়, সবাইকে ক্ষমা করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের বিএনপিকে জয়ী করতে একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকুন : তারেক রহমান ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত করতে আইনি সংস্কার জরুরি: গভর্নর ২৬ দিনে এলো ২৭১ কোটি ডলার: রেমিট্যান্সে বড় লাফ ইতিহাসে প্রথমবার ৫০০০ ডলার ছাড়ালো সোনার দাম: নেপথ্যে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ও বৈশ্বিক উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রে দানবীয় তুষারঝড়: ১৫ হাজার ফ্লাইট বাতিল, ২০ অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা

খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ জহুরুল ইসলামের ইন্তেকাল: বিআইআইটি-এর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থটের (বিআইআইটি) প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি জেনারেল, বিশিষ্ট চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট, প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও গবেষক মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম আর নেই। গত ৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার উত্তরাস্থ নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিআইআইটি-এর মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এম আবদুল আজিজ। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

ইসলামিক অর্থনীতিতে পথিকৃত

ড. এম আবদুল আজিজ মরহুম মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম সম্পর্কে বলেন, তিনি ছিলেন দেশের ইসলামিক অর্থনীতি, ব্যাংকিং, উন্নয়ন নীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি গবেষণার একজন পথিকৃৎ। ইসলামিক অর্থনীতি ও চিন্তাচর্চায় তাঁর অবদান ছিল অনন্য। দেশে ইসলামিক অর্থনীতি গবেষণার বিস্তারে তিনি অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন।

ড. আজিজ আরও বলেন, মুসলিম সমাজকে এগিয়ে নিতে তাঁর দূরদৃষ্টি ও নিষ্ঠা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক স্থায়ী অনুপ্রেরণার অসাধারণ উৎস হয়ে থাকবে। বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। বিআইআইটি-এর অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং ‘ইসলামায়ন অব নলেজ’ আন্দোলনে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও জাতীয় অবদান

মোহাম্মদ জহুরুল ইসলামের শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবন ছিল অসাধারণ সাফল্যে ভরপুর।

  • শিক্ষাজীবন: ১৯৭০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
  • কর্মজীবন: চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হিসেবে পেশাজীবন শুরু করে পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন শীর্ষ সরকারি প্রতিষ্ঠানে ফাইনান্স ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন এবং আইসিএবি-এর অধীনে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন।
  • প্রতিষ্ঠাতা ভূমিকা: তিনি বাংলাদেশ ইসলামিক ইকোনমিকস রিসার্চ ব্যুরো (প্রতিষ্ঠা: ১৯৭৬) এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ইসলামিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (প্রতিষ্ঠা: ১৯৮৩)-এর প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
  • গুরুত্বপূর্ণ পদে: তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক, ঢাকা ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই সেন্টার (ডেসা), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজউকের ফিন্যান্স ডিরেক্টরসহ বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

গবেষণা ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি

তিনি অর্থনীতি, ব্যাংকিং, ফাইন্যান্স, সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক ১৩টিরও বেশি বই এবং অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেছেন। বিশ্বখ্যাত এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ইসলামিক ইকোনোমিক্স-এ প্রকাশিত তাঁর ‘ইনফ্রাস্ট্রাক্চার ডেভেলপমেন্ট অব মুসলিম কান্ট্রিজ’ শীর্ষক গবেষণা নিবন্ধটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন, যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, নেপাল, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে গবেষণা, সেমিনার ও সংলাপে অংশ নিয়েছেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের আমন্ত্রণে ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটরস প্রোগ্রাম-এ অংশগ্রহণ করেন।

সামাজিক সংগঠক হিসেবে তিনি এশিয়ান মুসলিম অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (আমান)-এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি কোনো দল বা গোষ্ঠীর ছিলেন না, ছিলেন পুরো জাতির ও উম্মাহর সম্পদ

জনকল্যাণে নিবেদিত

কানাডায় স্থায়ী হওয়ার পরও তিনি কমিউনিটি সেবায় যুক্ত ছিলেন এবং এর স্বীকৃতিস্বরূপ অন্টারিও ভলান্টিয়ার সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড ২০১৩ লাভ করেন।

তিনি আশফাক-আজিজ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং পরকালের কল্যাণে নিজের স্থাবর-অস্থাবর বহু সম্পত্তি দান করে গেছেন। তিনি সিরাজগঞ্জে নিজ এলাকায় জোবায়দা মসজিদ, আশফাক আজিজ রিসার্চ সেন্টার, আশফাক আজিজ ইসলামিক একাডেমী, আশফাক আজিজ এতিমখানা ও শিক্ষা কেন্দ্র, মফিজ উদ্দীন সরকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।