সোমবার ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
গণভোটের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা পল্লী বিদ্যুতের ৩ কোটি ৭২ লাখ গ্রাহকের কাছে যাবে ‘হ্যাঁ’ লিফলেট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ খাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা চালানো হবে আইসিএমএবি’র নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন মো. কাওসার আলম জলবায়ু পরিবর্তন ও ট্রাম্প: গণমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি বনাম বাস্তবতা গ্রিনল্যান্ড কিনতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের ১০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা লগারহেড কচ্ছপ ‘গুমুশ’-এর বিস্ময়কর যাত্রা: সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধিই কি কারণ?

বাংলাদেশের নারীরা পুরুষদের চেয়ে চার গুণ বেশি অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজ করেন :বিআইডিএস

ঢাকা, ২৫ আগস্ট : বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের নারীরা পুরুষদের চেয়ে চার গুণ বেশি অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজ করেন।

সোমবার (২৫ আগস্ট) বিআইডিএস-এর অডিটোরিয়ামে ‘কেয়ার রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড উইমেন’স ওয়ার্ক ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।

সাজেদা ফাউন্ডেশনের সিনিয়র রিসার্চ অ্যাডভাইজার সাজেদা আমিন সেমিনারে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। গবেষণায় দেখা যায়, বিশেষ করে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এই বৈষম্য সবচেয়ে বেশি। এই বয়সী নারীরা সপ্তাহে গড়ে ২০ ঘণ্টা অবৈতনিক কাজ করেন, যেখানে একই বয়সী পুরুষেরা করেন মাত্র ৫ ঘণ্টা।

গবেষণায় বলা হয়েছে যে নারী শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে গৃহস্থালি কাজের অসম দায়িত্ব, যেমন- শিশু যত্ন, ঘর ব্যবস্থাপনা এবং অসুস্থ বা বয়স্কদের সেবা, একটি প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করে।2 এই দায়িত্বগুলো নারীদের অর্থনৈতিক ফলাফলের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে এবং শ্রমের গভীর-মূলীঙ্গিত লিঙ্গ বিভাজন তুলে ধরে।

গবেষণার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারীদের বাড়ির কাছাকাছি কাজ করার প্রবণতার প্রধান কারণ তাদের সেবাযত্ন সম্পর্কিত দায়িত্ব। এর ফলে, সাম্প্রতিক সময়ে নারী শ্রমশক্তিতে যে বৃদ্ধি দেখা গেছে, তা মূলত সেইসব কাজে সীমাবদ্ধ, যা বাড়ি থেকে করা যায়।

গবেষণায় গ্রামীণ ও শহুরে এলাকার মধ্যে একটি লক্ষণীয় পার্থক্য পাওয়া যায়। গ্রামীণ এলাকায় কৃষিভিত্তিক ও অনানুষ্ঠানিক কাজের সুযোগ সহজে পাওয়া যায় বলে সেখানে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে, কিন্তু শহুরে এলাকায় তা কমছে। এই ফলাফল থেকে বোঝা যায় যে, নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে শুধু আনুষ্ঠানিক খাতকে লক্ষ্য না করে বরং অনানুষ্ঠানিক খাত এবং গিগ ইকোনমিকে (Gig economy) সমর্থন করার ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. এ. কে. এনামুল হক। তিনি নারী কর্মীদের একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পোশাক খাতের নারী কর্মীদের প্রায়ই কর্মস্থলে পৌঁছাতে এক কিলোমিটারের বেশি পথ হাঁটতে হয়। এই দীর্ঘ পথের কারণে তারা কারখানার ভেতরের দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের নিয়ে যেতে পারেন না। ড. হক পরামর্শ দেন, কর্মস্থল যদি বাড়ির কাছাকাছি হতো, তবে এই দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলো আরও বেশি ব্যবহৃত হতো।

বিআইডিএস-এর সাবেক গবেষণা পরিচালক রুশিদান ইসলাম রহমান নারীদের জন্য আরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান কম তৈরি হচ্ছে এবং যে সুযোগ তৈরি হচ্ছে, সেগুলোর বেশিরভাগই পুরুষরা দখল করে নিচ্ছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, প্রযুক্তির মতো আধুনিক খাতে নারীদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করা উচিত।

সেমিনারে বিআইডিএস-এর গবেষক ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইউএন উইমেনের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ নবানিতা সিনহা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।