বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ:
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মহাযুদ্ধের দামামা, বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস জ্বালানি সংকটের শঙ্কা: আলোকসজ্জা পরিহার ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমানোর নির্দেশ সরকারের সাদিক আহমেদের পদত্যাগ: নীতি সুদহার কমানোর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত করল বাংলাদেশ ব্যাংক বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে চীনা প্রতিষ্ঠান; ৪,১৭০ জনের কর্মসংস্থান<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> ইরানে হামলায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার: যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ<gwmw style="display:none;"></gwmw> রপ্তানি সংকটের মুখে পোশাক শ্রমিকদের বেতন দিতে বিশেষ ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে: গভর্নর রপ্তানি খাতে ২৫০০ কোটি টাকা ছাড়: সরকারকে বিজিএমইএ’র ধন্যবাদ ডিসেম্বরে শ্রেণিকৃত ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা

সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে খাদ্যশস্য বিতরণ কর্মসূচি বাড়াচ্ছে

ঢাকা, ১৮ আগস্ট – খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ সরকার আগামী অর্থবছরে ৩৬.৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিতরণের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে খোলা বাজারে চাল ও আটা বিক্রির (ওএমএস) জন্য গমের বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, আগে যেখানে ৫০ লাখ পরিবার এই সুবিধা পেত, এখন থেকে ৫৫ লাখ পরিবারকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল ১৫ টাকা কেজি দরে দেওয়া হবে। এই চাল আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে বিতরণ করা হবে।

ওএমএস কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)-এর সর্বশেষ অর্থনৈতিক আপডেট অনুযায়ী, বাংলাদেশে চালের মূল্য খাদ্য ও সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে। জিইডি’র প্রতিবেদন বলছে, খাদ্য মুদ্রাস্ফীতিতে চালের অবদান মে মাসে ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে জুলাই মাসে ৫১.৫৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মোটা ও মাঝারি চালের দাম বৃদ্ধির কারণে যথাক্রমে ২৪ ও ১৮.৩৯ শতাংশ অবদান রেখেছে।

খাদ্য অধিদপ্তর থেকে এক নোটে বলা হয়েছে, ওএমএস কর্মসূচিতে চাল ও গমের বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। কর্মকর্তারা বলেন, ওএমএস কর্মসূচির মাধ্যমে কম আয়ের ভোক্তাদের জন্য ভর্তুকি মূল্যে চাল ও গম সরবরাহ করা হয়, যা মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে জরুরি।

খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে খাদ্য অধিদপ্তর এই কর্মসূচিগুলো পরিচালনা করে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • দুর্বল গোষ্ঠী খাওয়ানো (VGF) এবং দুর্বল গোষ্ঠী উন্নয়ন (VGD): এই কর্মসূচির অধীনে লক্ষ লক্ষ দরিদ্র পরিবারকে, বিশেষ করে কৃষি সংকটের সময় এবং ধর্মীয় উৎসবের আগে চাল ও গম সরবরাহ করা হয়।
  • কাজের বিনিময়ে খাদ্য (FFW) এবং টেস্ট রিলিফ (TR): এই কর্মসূচিগুলোতে গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প, যেমন সড়ক ও বাঁধ মেরামত এবং সেচ খাল নির্মাণে শ্রমের বিনিময়ে খাদ্যশস্য দেওয়া হয়, যা কর্মসংস্থান তৈরি করে।
  • খোলা বাজারে বিক্রয় (ওএমএস): দেশব্যাপী ট্রাক এবং ডিলারের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে চাল ও আটা বিক্রি করা হয়, যা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
  • দুর্যোগ ত্রাণ: বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরাসরি খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়।

এই কর্মসূচিগুলো বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)-এর মতো উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় পরিচালিত হয়, যারা সক্ষমতা বৃদ্ধি, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় সরকারকে সহায়তা করে। একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারের খাদ্যশস্যের মজুদ সন্তোষজনক থাকায় তারা আশা করছেন যে বাজারমূল্য তুলনামূলকভাবে কম থাকবে।