নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা — দেশের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে ব্যাপক উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৬ দিনেই দেশে ২৭০ কোটি ৮০ লাখ (২.৭১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই সময়ের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স।
বছর ব্যবধানে বড় প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারির প্রথম ২৬ দিনে দেশে এসেছিল ১৭৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মূলত ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “শুধু ২৬ জানুয়ারি এক দিনেই প্রবাসীরা দেশে ৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন।” তিনি আরও জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু (জুলাই) থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৮৯৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ২১.৯০ শতাংশ বেশি।
রেকর্ড গড়ার পথে প্রবাসী আয় চলতি অর্থবছরের মাসগুলোর মধ্যে গত ডিসেম্বর ছিল সবথেকে সফল মাস। ওই মাসে দেশে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স, যা চলতি অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং দেশের ইতিহাসে একক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।
অর্থবছরের মাসওয়ারি রেমিট্যান্স চিত্র:
ডিসেম্বর: ৩.২৩ বিলিয়ন ডলার (অর্থবছরের সর্বোচ্চ)
নভেম্বর: ২.৮৯ বিলিয়ন ডলার
সেপ্টেম্বর: ২.৬৯ বিলিয়ন ডলার
অক্টোবর: ২.৫৬ বিলিয়ন ডলার
জুলাই ও আগস্ট: যথাক্রমে ২.৪৭ ও ২.৪২ বিলিয়ন ডলার
উল্লেখ্য, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশ মোট ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছিল, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে যেকোনো একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড।
অর্থনীতিতে স্বস্তি অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটি সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং ডলার সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের সহায়ক হবে।