বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ:
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মহাযুদ্ধের দামামা, বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস জ্বালানি সংকটের শঙ্কা: আলোকসজ্জা পরিহার ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমানোর নির্দেশ সরকারের সাদিক আহমেদের পদত্যাগ: নীতি সুদহার কমানোর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত করল বাংলাদেশ ব্যাংক বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে চীনা প্রতিষ্ঠান; ৪,১৭০ জনের কর্মসংস্থান<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> ইরানে হামলায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার: যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ<gwmw style="display:none;"></gwmw> রপ্তানি সংকটের মুখে পোশাক শ্রমিকদের বেতন দিতে বিশেষ ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে: গভর্নর রপ্তানি খাতে ২৫০০ কোটি টাকা ছাড়: সরকারকে বিজিএমইএ’র ধন্যবাদ ডিসেম্বরে শ্রেণিকৃত ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা

২০২৬-এর শুরুতে সুদের হার কমানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ

ওয়াশিংটন ডিসি :

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) ২০২৬ সালের শুরুতে সুদের হার আরও কমানোর ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নীতি-নির্ধারণী সভার কার্যবিবরণী (মিনিটস) মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে যে কমিটির অনেক সদস্যই অদূর ভবিষ্যতে সুদের হার আরও কমানোর বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন।

জানুয়ারিতে বিরতির সম্ভাবনা

ডিসেম্বরের সভার বিবরণী অনুযায়ী, বেশিরভাগ সদস্য মনে করেন যদি মুদ্রাস্ফীতি ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে সুদের হার আরও কমানো সম্ভব। তবে মুদ্রাস্ফীতির হার প্রত্যাশিত মাত্রায় না কমায় এবং শ্রমবাজারে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকায় আগামী জানুয়ারির সভায় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন অনেক কর্মকর্তা।

২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে ফেড টানা তিনবার সুদের হার কমিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, এই ধারাবাহিকতা এখনই বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।

নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বিভক্তি

ডিসেম্বরের সভায় সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত হলেও কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর মতভেদ পরিলক্ষিত হয়েছে।

  • বিরোধিতা: কিছু কর্মকর্তা ডিসেম্বরেও হার কমানোর বিপক্ষে ছিলেন। তাদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি ২% লক্ষ্যমাত্রায় নামিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি থমকে গেছে।
  • ভিন্ন মত: সভার ভোটাভুটিতে তিন জন ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন। এদের মধ্যে দুই জন হার কমানোর বিপক্ষে ছিলেন এবং এক জন ট্রাম্পের অনুসারী হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তা আরও বড় হারে কমানোর পক্ষে ছিলেন।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও চ্যালেঞ্জ

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হারের সীমা ৩.৫% থেকে ৩.৭৫% এর মধ্যে রয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে কিছু চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে:

  • মুদ্রাস্ফীতি: নভেম্বরের তথ্যে মুদ্রাস্ফীতি ২.৭% দেখালেও সরকারি শাটডাউনের কারণে এই তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সংশয় আছে।
  • শ্রমবাজার: বেকারত্বের হার ৪.৬% এ উঠলেও ভোক্তা ব্যয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (৪.৩%) প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।

ট্রাম্প ফ্যাক্টর ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব

ফেডের বর্তমান চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ আগামী মে মাসে শেষ হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর উত্তরসূরি খোঁজা শুরু করেছেন। ট্রাম্প বরাবরই সুদের হার কমানোর পক্ষে জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন, যা ফেডের স্বাধীন নীতি নির্ধারণে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ:

আগামী ৯ জানুয়ারি ডিসেম্বর মাসের কর্মসংস্থানের রিপোর্ট প্রকাশিত হবে। এই রিপোর্টের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই ২৭-২৮ জানুয়ারির সভায় সুদের হার কমানো বা না কমানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, জানুয়ারিতে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।