নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার হাওরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ এখন সরিষা ফুলের হলদে আভায় ছেয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে যেন বিছানো হয়েছে এক সোনালি গালিচা। সরিষার এই ভালো ফলন স্থানীয় হাওরপাড়ের কৃষকদের মনে নতুন আশা ও আর্থিক সচ্ছলতার সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে।
উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ও দক্ষিণ, চামরদানী এবং মধ্যনগর সদর ইউনিয়নের নিচু জমি, নদীর তীর ও হাওর সংলগ্ন এলাকাগুলো এখন সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত। এই নয়নকাড়া দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন উৎসুক দর্শনার্থীরাও।
স্বল্প খরচ ও অধিক লাভের আশা
মধ্যনগর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। স্বল্প খরচ, কম সময় এবং অধিক লাভজনক হওয়ায় হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে তেলজাতীয় এই ফসল চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ধান চাষে উচ্চ উৎপাদন খরচ এবং বাজারমূল্যের অনিশ্চয়তার কারণে তারা এখন সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। একজন কৃষক জানান, “ধান চাষে অনেক সময় লোকসান গুণতে হয়, কিন্তু সরিষা চাষে বিনিয়োগ কম লাগে এবং অল্প সময়েই ফসল ঘরে তোলা যায়। এটি আমাদের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ।”
বহুমুখী আয়ের সুযোগ
সাধারণত কার্তিক মাসের শেষ দিকে সরিষা বপন করা হয় এবং পৌষ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফসল কাটা শেষ হয়। এর ফলে বোরো ধান রোপণের আগেই কৃষকরা হাতে নগদ অর্থ পাচ্ছেন। কেবল বীজ নয়, সরিষার ফুল ও শাক বিক্রি করেও কৃষকরা বাড়তি আয় করছেন। এছাড়া ফসল কাটার পর অবশিষ্ট শুকনা গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত বা বিক্রি করা হচ্ছে।
সরকারি সহায়তা ও লক্ষ্যমাত্রা
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকমল হোসেন জানান, “বিগত বছরগুলোর মতো এবারও সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। কোনো বড় ধরণের রোগবালাই বা পোকামাকড়ের উপদ্রব না হলে কৃষকরা আশাতীত ফলন পাবেন।” তিনি আরও জানান, সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে সময়মতো সার ও উন্নত জাতের বীজ বিতরণ করায় চাষাবাদ নির্বিঘ্ন হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতের ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগে দেশজুড়ে সরিষা চাষের যে বিপ্লব শুরু হয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে সুনামগঞ্জের এই হাওরাঞ্চলেও। আমদানিকৃত ভোজ্য তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে এই সরিষা চাষ জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।