সোমবার ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
গণভোটের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা পল্লী বিদ্যুতের ৩ কোটি ৭২ লাখ গ্রাহকের কাছে যাবে ‘হ্যাঁ’ লিফলেট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ খাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা চালানো হবে আইসিএমএবি’র নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন মো. কাওসার আলম জলবায়ু পরিবর্তন ও ট্রাম্প: গণমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি বনাম বাস্তবতা গ্রিনল্যান্ড কিনতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের ১০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা লগারহেড কচ্ছপ ‘গুমুশ’-এর বিস্ময়কর যাত্রা: সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধিই কি কারণ?

লালদিয়া টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু আগামী বছর, চালু ২০৩০ সালে: চট্টগ্রাম বন্দরে দ্বিতীয় বিদেশি অপারেটর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : কর্ণফুলী নদীর তীরে পতেঙ্গার লালদিয়ার চরে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের (APM Terminals) সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। এই টার্মিনাল নির্মাণকাজ আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হতে পারে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এটি পুরোদমে চালু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল বুধবার বিকেলে সরেজমিনে পতেঙ্গার লালদিয়ার চরের বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সীমানাপ্রাচীরে ঘেরা বিশাল এলাকাটি বর্তমানে খালি এবং ঘাসে পরিপূর্ণ। এই খালি জায়গাতেই নির্মিত হবে বহু প্রতীক্ষিত লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল।

এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে ৩৩ বছরের চুক্তিগত সোমবার ঢাকার একটি হোটেলে ডেনমার্কের মায়ের্সক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস-এর সঙ্গে চবক এই সমঝোতা ও কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, ডেনমার্কের এই কোম্পানিটি ৩৩ বছরের জন্য টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। শর্ত পূরণের ভিত্তিতে তারা আরও ১৫ বছর এটি পরিচালনার সুযোগ পাবে। এই প্রকল্পে স্থানীয় অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেস।

চুক্তির পর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, “মাত্রই চুক্তি হলো। এখন চুক্তি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

সূত্রগুলো জানিয়েছে, জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর প্রকল্পের বিশদ নকশা প্রণয়ন ও অনুমোদনের মতো প্রক্রিয়াগত কাজ শেষ করে আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মূল নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে। টার্মিনাল নির্মাণ ও পুরোদমে চালু হতে সাধারণত তিন থেকে চার বছর সময় লাগে।

আন্তর্জাতিক মান ও প্রতিযোগিতায় অগ্রগতিবন্দর পরিচালনায় যুক্ত হতে যাওয়া এপিএম টার্মিনালস হলো বাংলাদেশে দ্বিতীয় বিদেশি প্রতিষ্ঠান। এর আগে গত বছর জুনে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালের (আরএসজিটিআই) চট্টগ্রামের পতেঙ্গা টার্মিনাল পরিচালনায় যুক্ত হয়।

এদিকে, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (NCT) অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান। এটি সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।সী কম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “দুই আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগের ফলে চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়লে বৈদেশিক বাণিজ্য গতিশীল হবে।” তবে তিনি মাশুল যৌক্তিকভাবে ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

বড় জাহাজ ও সরাসরি ইউরোপ-আমেরিকা সেবাবন্দর পর্ষদের সাবেক সদস্য মো. জাফর আলম মনে করেন, বন্দরের অন্যান্য টার্মিনালের চেয়ে লালদিয়াতে সুবিধা বেশি পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন “কর্ণফুলী নদীর মুখে গভীরতা বাড়ানো গেলে জোয়ারের সুবিধা নিয়ে মায়ের্সক লাইনের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালে অপেক্ষাকৃত বড় জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। বড় জাহাজ ভেড়ানো গেলে ইউরোপ-আমেরিকায় সরাসরি জাহাজ চলাচল সেবা চালু করতে পারবে মায়ের্সক লাইন। তাতে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।”

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক পোশাক ক্রেতাদের সিংহভাগই মায়ের্সক লাইনের গ্রাহক। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।টার্মিনাল নির্মাণের অগ্রগতির বিষয়ে আপনি কি আরও তথ্য জানতে চান?