আন্তালিয়া, তুরস্ক – ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবিশ্বাস্য ২৪,০০০ কিলোমিটার (১৪,৯১৩ মাইল) পথ অতিক্রম করেছে ‘গুমুশ’ (Gumus/Silver) নামের একটি লগারহেড সামুদ্রিক কচ্ছপ। দীর্ঘ এই পথচলা এই প্রজাতির কচ্ছপগুলোর ক্ষেত্রে রেকর্ডকৃত অন্যতম রহস্যময় ও বিস্ময়কর পরিযায়ী পথ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
অভাবনীয় এক পথচলা
ইকোলজিক্যাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন (EKAD)-এর সামুদ্রিক কচ্ছপ গবেষণা ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তুরস্কের আন্তালিয়া উপকূলের কিজিলট সৈকত থেকে ‘গুমুশ’ এবং ‘আলতিন’ (Gold) নামের দুটি কচ্ছপকে স্যাটেলাইট ট্র্যাকারসহ সমুদ্রে অবমুক্ত করা হয়।
সাধারণত এই প্রজাতির কচ্ছপগুলো একটি নির্দিষ্ট বা পরিচিত পথ অনুসরণ করলেও গুমুশ সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটে। তুরস্কের উপকূল ছেড়ে সে প্রথমে গ্রিক দ্বীপপুঞ্জ, সিসিলি এবং ইতালি হয়ে তিউনিসিয়ার হাম্মামেত উপসাগরে পৌঁছায়। এরপর উত্তর আফ্রিকার উপকূল ধরে গাজা উপদ্বীপ, মিশরের বারদাবিল হ্রদ এবং রাস এল-বার অতিক্রম করে পুনরায় সিসিলিতে ফিরে আসে। বর্তমানে কচ্ছপটি আলজেরিয়া উপকূল হয়ে স্পেনের টোরেভিজা সমুদ্রসীমায় অবস্থান করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের সংকেত
গবেষকদের মতে, গুমুশ ভূমধ্যসাগরে সম্পূর্ণ নতুন একটি পরিযায়ী করিডোর উন্মোচন করেছে। তবে এই অস্বাভাবিক আচরণের পেছনে উদ্বেগজনক কারণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
EKAD-এর গবেষক ওনুর কান্দান বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে বলেন,
“আমরা বিশ্বাস করি এই অস্বাভাবিক আচরণের পেছনে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি সরাসরি দায়ী— যা জলবায়ু পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট লক্ষণ।”
গবেষণা ও ভবিষ্যৎ
EKAD বর্তমানে ‘ফ্লোরা’ এবং ‘ফনা’ নামের আরও দুটি কচ্ছপকে ট্র্যাক করছে। তাদের গতিবিধিও ত্রিপোলি, গ্রিস এবং ইবিজা পর্যন্ত বিস্তৃত। গবেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান উষ্ণ পানি সামুদ্রিক প্রাণীদের চিরচেনা পথ বদলে দিচ্ছে। এই স্যাটেলাইট তথ্যগুলো বিপন্ন লগারহেড প্রজাতিকে রক্ষার জন্য ভবিষ্যতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।