নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০২৫ সালে সবকটি প্রধান সূচকে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং, জাহাজ চলাচল এবং রাজস্ব আয়—সব ক্ষেত্রেই আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা বন্দরের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক ২০২৫ সালের এই সাফল্যের পরিসংখ্যান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
পরিসংখ্যানে ২০২৫ সালের অর্জন
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের প্রধান সাফল্যগুলো হলো:
- কনটেইনার হ্যান্ডলিং: মোট ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউএস (প্রবৃদ্ধি ৪.৭%)।
- কার্গো হ্যান্ডলিং: ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন (প্রবৃদ্ধি ১১.৪৩%)।
- জাহাজ হ্যান্ডলিং: মোট ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ (প্রবৃদ্ধি ১০.৫০%)।
- রাজস্ব আয়: ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা (প্রবৃদ্ধি ৭.৫৫%)।
- সরকারি কোষাগারে জমা: ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
অটোমেশন ও আধুনিকায়নের সুফল
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আধুনিক হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট সংযোজন, অনলাইন ই-মুট পাস, অনলাইন বিল জেনারেশন এবং ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর ফলে বন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও গতি এসেছে। বিশেষ করে গত ২৩ ডিসেম্বর এক দিনেই সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৭৬১টি ই-মুট পাস ইস্যু করে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া জাহাজ ব্যবস্থাপনায় উন্নতির ফলে অনেক দিন বন্দরে জাহাজের ‘ওয়েটিং টাইম’ শূন্য ছিল।
চ্যালেঞ্জ জয় ও সক্ষমতা বৃদ্ধি
২০২৫ সালে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের শাটডাউন এবং অক্টোবর মাসে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে বন্দরে কয়েক দফা কনটেইনার জট সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ইয়ার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সময়োপযোগী নীতিমালার কারণে দ্রুতই সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বের সেরা ১০০ কনটেইনার বন্দরের তালিকায় ৬৮তম অবস্থানে রয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ওমর ফারুক জানান, অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ৭০ হাজার বর্গমিটার ইয়ার্ড নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং ১৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকার বে-টার্মিনাল প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দর একটি আঞ্চলিক ‘ট্রান্সশিপমেন্ট হাব’-এ পরিণত হবে।
ইউএস কোস্ট গার্ডের পরিদর্শনে ইতিবাচক স্বীকৃতি পাওয়ায় বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জন করেছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারী ও শিপিং লাইনগুলোর আস্থা বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।