আন্তর্জাতিক ডেস্ক — যুক্তরাষ্ট্রে চলমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং ভয়াবহ তুষারঝড়ের কবলে পড়েছে বিশ্বের বৃহত্তম বিটকয়েন মাইনিং নেটওয়ার্ক। অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে অনেক মাইনার তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখায় বিটকয়েনের ‘হ্যাশ রেট’ (Hash Rate) বা মাইনিং সক্ষমতা প্রায় ৩৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
মাইনিংয়ে বড় ধস বিটইনফো চার্টস-এর (Bitinfocharts) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জানুয়ারির তুলনায় ২৫ জানুয়ারি বিটকয়েন নেটওয়ার্কের প্রসেসিং পাওয়ার বা হ্যাশ রেট উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে বিপজ্জনক বরফ পড়া এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তুষারঝড়ের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা আকাশচুম্বী হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কেন এই পতন? বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তীব্র ঠান্ডায় ঘরবাড়ি গরম রাখতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্যুতের ব্যবহার অনেক বেড়ে গেছে। এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে এবং বিদ্যুৎ গ্রিডকে ভেঙে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করতে বিটকয়েন মাইনাররা সাময়িকভাবে তাদের প্রসেসরগুলো বন্ধ করে দিচ্ছেন। বিটকয়েন মাইনিং একটি বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী প্রক্রিয়া না হওয়ায় গ্রিডের ভারসাম্য বজায় রাখতে বড় মাইনিং খামারগুলো এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এক ঐতিহাসিক তুষারপাত ও হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মোকাবিলা করছে।
তুষারপাত: অনেক এলাকায় ৩০ সেন্টিমিটারের (১১.৮ ইঞ্চি) বেশি বরফ জমেছে।
বিপর্যস্ত জনজীবন: রাস্তাঘাট বরফে ঢাকা পড়ে যাওয়ায় পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে এবং অনেক স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (NWS) জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে প্রায় ২০ কোটিরও বেশি মানুষ এই বিপজ্জনক আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন।
অর্থনৈতিক প্রভাব বিটকয়েন মাইনিংয়ের সক্ষমতা কমে যাওয়ায় ব্লক তৈরির গতি সাময়িকভাবে ধীর হয়ে গেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে মাইনাররা পুনরায় সক্রিয় হলে এই সক্ষমতা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে।