মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ তুষারঝড়: বিটকয়েন মাইনিং ক্ষমতা কমেছে ৩৭ শতাংশ ইউরোপে টেসলার বড় ধস: বিক্রি কমেছে ৩৮ শতাংশ, বাজার দখলে এগোচ্ছে চীনা বিওয়াইডি প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস কমিটির প্রতিবেদন বিজয়ী হলে প্রতিশোধ নয়, সবাইকে ক্ষমা করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের বিএনপিকে জয়ী করতে একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকুন : তারেক রহমান ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত করতে আইনি সংস্কার জরুরি: গভর্নর ২৬ দিনে এলো ২৭১ কোটি ডলার: রেমিট্যান্সে বড় লাফ ইতিহাসে প্রথমবার ৫০০০ ডলার ছাড়ালো সোনার দাম: নেপথ্যে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ও বৈশ্বিক উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রে দানবীয় তুষারঝড়: ১৫ হাজার ফ্লাইট বাতিল, ২০ অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা

মুরগির বাচ্চা আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত হলে, সংকটে পড়বে খাদ্যনিরাপত্তা ও প্রান্তিক খামারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ‘জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা-২০২৬’-এর চূড়ান্ত খসড়ায় বাণিজ্যিক পোল্ট্রি পালনের জন্য একদিন বয়সী মুরগির বাচ্চা আমদানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পোল্ট্রি শিল্পের অংশীজন ও বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এই নীতিমালা হুবহু বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার এই শিল্পে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এতে যেমন প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তেমনি সাধারণ মানুষের প্রোটিনের প্রধান উৎস ডিম ও মুরগির মাংসের দাম বেড়ে গিয়ে খাদ্যনিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

গত ১৩ জানুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এই খসড়া নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়। এর ৫.৮.১.২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, একদিন বয়সী বাচ্চা আমদানি করা যাবে না; কেবল বিশেষ প্রয়োজনে গ্র্যান্ড প্যারেন্ট স্টক ও প্যারেন্ট স্টক আমদানির সুযোগ থাকবে।

সিন্ডিকেট ও সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা

পোল্ট্রি খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে বর্তমানে একদিন বয়সী বাচ্চা উৎপাদন হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, আমদানির পথ বন্ধ থাকলে বড় কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া ব্যবসা বা ‘সিন্ডিকেট’ করার সুযোগ বাড়বে। কোনো কারণে দেশীয় উৎপাদনে মহামারি বা রোগ দেখা দিলে বাজারে বাচ্চার তীব্র সংকট তৈরি হবে, যা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

পোল্ট্রি প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ অঞ্জন মজুমদার বলেন, ‘এই নীতিমালাটি বাস্তবায়িত হলে ত্রিমুখী সংকট তৈরি হবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন প্রান্তিক খামারি ও সাধারণ ভোক্তারা। কোনো বড় সিদ্ধান্তে আসার আগে স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে গণশুনানি করা জরুরি ছিল।’

খাদ্যনিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিম ও মুরগির মাংস দেশের মানুষের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী প্রোটিনের উৎস। বাচ্চার সংকট হলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে খুচরা বাজারে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের পুষ্টি গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হবে।

শের-এ-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আমদানি বন্ধের আগে জরুরি পরিস্থিতির বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। আমদানির প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় সংকটকালীন সময়ে হুট করে বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে না। একইভাবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ ড. মো. বাহানুর রহমান সতর্ক করে বলেন, এই খাতটি মূলত বেসরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভরশীল। তাই সরকারের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা না বাড়িয়ে এ ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

সরকারের অবস্থান

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (উৎপাদন) এ বি এম খালেদুজ্জামান জানান, দেশীয় পোল্ট্রি শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করতেই এই খসড়া তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে বলেই মনে করছে সরকার।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিমালায় বাজার ব্যবস্থাপনা বা সিন্ডিকেট মোকাবিলার কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। তাই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নীতিমালাটি আরও যুগোপযোগী ও খামারি-বান্ধব করার দাবি জানিয়েছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা।


সংবাদের মূল বিষয়গুলো:

দাবি: গণশুনানি ও স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে নীতিমালা সংশোধন।

বিষয়: জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা-২০২৬ এর খসড়া নিয়ে উদ্বেগ।

প্রধান সমস্যা: একদিন বয়সী মুরগির বাচ্চা আমদানি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত।

সম্ভাব্য প্রভাব: উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বাচ্চার সংকট এবং ডিম ও মাংসের দাম বেড়ে যাওয়া।