সোমবার ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
গণভোটের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা পল্লী বিদ্যুতের ৩ কোটি ৭২ লাখ গ্রাহকের কাছে যাবে ‘হ্যাঁ’ লিফলেট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ খাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা চালানো হবে আইসিএমএবি’র নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন মো. কাওসার আলম জলবায়ু পরিবর্তন ও ট্রাম্প: গণমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি বনাম বাস্তবতা গ্রিনল্যান্ড কিনতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের ১০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা লগারহেড কচ্ছপ ‘গুমুশ’-এর বিস্ময়কর যাত্রা: সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধিই কি কারণ?

মারকোসুর বাজারে পোশাক রপ্তানির প্রবেশদ্বার হতে পারে উরুগুয়ে: বিজিএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :  দক্ষিণ আমেরিকার প্রভাবশালী বাণিজ্যিক জোট ‘মারকোসুর’ (Mercosur) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে উরুগুয়ে প্রধান প্রবেশদ্বার বা ‘গেটওয়ে’ হিসেবে কাজ করতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বাংলাদেশে নিযুক্ত উরুগুয়ের রাষ্ট্রদূত আলবার্তো গুয়ানির সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা

বিজিএমইএ-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

ইনামুল হক খান বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও লাতিন আমেরিকার বাজারে আমাদের উপস্থিতি এখনো সীমিত। উরুগুয়ের সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে।”

বিজিএমইএ পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, উরুগুয়ের ভৌগোলিক অবস্থান দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশগুলো যেমন—ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় পণ্য পৌঁছানোর জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক।

বিনিময়ে উলের প্রস্তাব

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত আলবার্তো গুয়ানি বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পোশাক আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেন। একইসাথে তিনি উরুগুয়ের বিশ্বখ্যাত ‘মেরিনো উল’ বাংলাদেশে রপ্তানির প্রস্তাব দেন।

বাংলাদেশে উরুগুয়ের অনারারি কনসাল মোস্তফা কামরুস সোবহান বলেন, “উরুগুয়ের উলের আন্তর্জাতিক মানের ‘ট্রেসেবিলিটি’ বা উৎস সনাক্তকরণ সনদ রয়েছে। এই উচ্চমানের উল ব্যবহার করে বাংলাদেশের পোশাক নির্মাতারা বিশ্ববাজারে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারে।”

বিজিএমইএ পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ মনে করেন, উরুগুয়ে থেকে উল আমদানির মাধ্যমে পণ্যে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব হবে, যা বৈশ্বিক লাক্সারি বা বিলাসবহুল পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াবে।

আগামী দিনের পরিকল্পনা

বাণিজ্যিক সম্পর্ককে বাস্তবে রূপ দিতে সভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়:

  • বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দল: উরুগুয়েতে একটি উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন বিজিএমইএ পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী।
  • সরকারি আমন্ত্রণ: রাষ্ট্রদূত জানান, উরুগুয়ে সরকার ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে।
  • ভিসা সহজীকরণ: দুই দেশের ব্যবসায়ীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর জোর দিয়েছেন বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ।

বৈঠকটি বাংলাদেশ ও উরুগুয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

আরও পড়ুন