ঢাকা : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে। এর ফলে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) কেনা এবং আমদানির দায় মেটানো—উভয় ক্ষেত্রেই মার্কিন ডলারের দাম বেড়ে গেছে।
মঙ্গলবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রবাসী আয় কেনার ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ দর দিয়েছে ১২২ টাকা ৯০ পয়সা। এর ফলে আমদানির ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে বলে ব্যাংক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ব্যয় বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ মাত্র এক সপ্তাহ আগেও আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের দাম ছিল প্রায় ১২২ টাকা ৫০ পয়সা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডলারে প্রায় ৫০ পয়সার এই উল্লম্ফন ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার সকালে একজন আমদানিকারক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে ব্যাংকগুলো। হঠাৎ করে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের আমদানি ব্যয় বাড়ছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়বে।”
রেমিট্যান্স বাজারে অস্থিরতা ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তায় বিদেশি রেমিট্যান্স হাউসগুলো ডলারের জন্য বেশি দর দাবি করছে। আগে যেখানে প্রবাসী আয়ের ডলার ১২২ টাকায় কেনা যেত, এখন তা ১২৩ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনেও এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। গত ৩ মার্চ ডলারের গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৩৩ পয়সা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৫৮ পয়সায়।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপ একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ডলারের দাম যেন আপাতত ১২৩ টাকার সীমা অতিক্রম না করে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে অনানুষ্ঠানিক বার্তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “তবে আমদানি দায় পরিশোধের চাপ যদি আরও বাড়ে এবং ডলারের সরবরাহ কম থাকে, তবে দাম আরও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে বাজার স্থিতিশীল রাখতে রিজার্ভ থেকে ডলার সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।”
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে বিনিময় হারকে পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।