নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : ব্যাংকারদের দাবির মুখে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবারও কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। গত ছয় মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দফায় মুনাফার হার কমানোর উদ্যোগ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ইতিমধ্যে নতুন হারের একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁর সই হওয়ার পর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত? অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধির স্বার্থে ব্যাংকাররা দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তিনি বলেন, “ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে এমন একটি দাবি আছে, তবে আমরা সার্বিক জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।”
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন সরকারের নেওয়া ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশলের অংশ হিসেবে প্রতি ছয় মাস অন্তর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ীই ৩১ ডিসেম্বর ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর নতুন হার কার্যকর হতে যাচ্ছে।
মুনাফার নতুন হার কেমন হবে? অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন প্রস্তাবে বিভিন্ন সঞ্চয় স্কিমে গড়ে ০.৫ শতাংশ মুনাফা কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে আগের মতোই বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে মুনাফার স্তরে ভিন্নতা থাকবে:
- স্বল্প বিনিয়োগ: ৭.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার তুলনামূলক বেশি থাকবে।
- বেশি বিনিয়োগ: ৭.৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১.৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৯.৭২ শতাংশ।
জনপ্রিয় স্কিমগুলোর বর্তমান অবস্থা: সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে ৭.৫ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগে ১১.৯৩ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে, যা নতুন বছরে কিছুটা কমবে। এছাড়া পেনশনার সঞ্চয়পত্র (বর্তমানে ১১.৯৮%), ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র (বর্তমানে ১১.৮৩%) এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের (বর্তমানে ১১.৮২%) হারেও পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড এবং ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবের মুনাফার হারে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
ব্যাংকিং খাতের প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বেশি থাকায় মানুষ ব্যাংকের বদলে সরকারি তহবিলে টাকা জমা রাখে। এই হার কমলে ব্যাংকে আমানত বাড়বে এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রদান সহজ হবে।”
ঋণের চিত্র সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার নিট ২,৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অক্টোবর শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩.৪১ লাখ কোটি টাকা।