নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : দেশে ব্যবসার পরিবেশ সহজতর করতে এবং বিনিয়োগ বাড়াতে উন্নত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন ব্যবসায়ী ও সরকারের নীতিনির্ধারকরা।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে উন্নত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান এ. এইচ. এম. আহসান প্রধান অতিথি এবং এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, গত কয়েক বছরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনাকাঙ্ক্ষিত অবনতি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বেসরকারি খাত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত সরকার ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ এবং বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ. এইচ. এম. আহসান বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের কার্যকর উদ্যোগের ফলে এবারের রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে দৃশ্যমান স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় সরবরাহ ও চাহিদার সঠিক সমন্বয় জরুরি এবং পণ্যের সঠিক পরিসংখ্যান নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা গেলে রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। তবে জনগণের আস্থা ফেরাতে দ্রুত দৃশ্যমান সংস্কারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অস্থিতিশীলতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করে। তিনি আরও জানান, ব্যবসা সহজ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘আইপিও পলিসি ২০২৫-২৮’ প্রবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আবদুল জলিল বলেন, আলুতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে বাংলাদেশ আলু রপ্তানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, নির্বাচনের পর ঢাকায় প্রায় ৫ লাখ নতুন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যোগ হওয়ায় যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। তিনি বলেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে আমদানি নীতিমালা নিয়ন্ত্রণ এবং চার্জিং গ্যারেজগুলোকে নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন। এছাড়াও তিনি ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর অবস্থানের আশ্বাস দেন।
মুক্ত আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতারা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। হাজী আবুল হাশেম সহনীয় ভ্যাট ও ট্যাক্স নীতির দাবি জানান। হাজী মো. গোলাম মাওলা বাজার ব্যবস্থাপনায় সঠিক তথ্যের অভাব ও পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজির কথা উল্লেখ করেন। হাজী মোহাম্মদ আলী ভুট্টো সিন্ডিকেট ভাঙতে আরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে নিত্যপণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া নাহার কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিকুল ইসলাম খান জানান, উত্তরাঞ্চলে আলু মাত্র ৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ায় কৃষকরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন।
অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই-এর ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালেম সুলাইমানসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।