বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ তুষারঝড়: বিটকয়েন মাইনিং ক্ষমতা কমেছে ৩৭ শতাংশ ইউরোপে টেসলার বড় ধস: বিক্রি কমেছে ৩৮ শতাংশ, বাজার দখলে এগোচ্ছে চীনা বিওয়াইডি প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস কমিটির প্রতিবেদন বিজয়ী হলে প্রতিশোধ নয়, সবাইকে ক্ষমা করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের বিএনপিকে জয়ী করতে একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকুন : তারেক রহমান ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত করতে আইনি সংস্কার জরুরি: গভর্নর ২৬ দিনে এলো ২৭১ কোটি ডলার: রেমিট্যান্সে বড় লাফ ইতিহাসে প্রথমবার ৫০০০ ডলার ছাড়ালো সোনার দাম: নেপথ্যে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ও বৈশ্বিক উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রে দানবীয় তুষারঝড়: ১৫ হাজার ফ্লাইট বাতিল, ২০ অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা

বিএজেএফ সেমিনারে বক্তারা : কোরবানির অর্থনীতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে

#কৃষি কমিশন গঠন করতে হবে #এবার সবচেয়ে নিরাপদ পশু পাওয়া যাবে#চামড়ার অর্থনীতি রুগ্ন করা হয়েছে মাদ্রাসাগুলোকে ধ্বংস করার জন্য

ঢাকা, মে ২৬: দেশে আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্যে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ পশু পাওয়া যাবে। এবার কোরবানির অর্থনীতি ১ লাখ কোটি টাকার ছাড়িয়ে যাবে।

দেশের চামড়া শিল্পকে রুগ্ন করে রাখা হয়েছিলো দেশের মাদ্রাসাকে ধ্বংস করার জন্যে। দেশের প্রাণীসম্পদ ও কৃষির উন্নয়নে কৃষি কমিশন গঠন করতে হবে।

সোমবার (২৬ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)-এবাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ) আয়োজিত ‘দেশীয় পশুতে কোরবানি: পশু ও চামড়া ব্যবস্থাপনায় করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিএজেএফ সভাপতি গোলাম ইফতেখার মাহমুদের সভাপতিত্বে ও বিএজেএফ সাধারণ সম্পাদক সাহানোয়ার সাইদ শাহীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা মিজ ফরিদা আখতার। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও লাল তীর লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট (বিডি) লিমিটেডের পরিচালক তাবিথ আউয়াল, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, কৃষিবিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আলী আফজাল,বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ডা. মো. বয়জার রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ উপদেষ্টা বলেন, এবার কোরবানির অর্থনীতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। কোরবানি আমাদের আবেগ ও ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়।

প্রান্তিক খামারীদের ঘুরে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় খামারিরা। আমি রাজশাহীতে গিয়ে অবাক হয়েছি। তারা বলছে, পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে স্থানীয়ভাবে গরু-ছাগল পালনের আগ্রহ বেড়েছে। সময় বদলে যাওয়ায় এখন বাড়ি বাড়ি গরু-ছাগল পালন করছেন নারী খামারি ও উদ্যোক্তারা। এখন কোরবানিতে বাইরের দেশের ওপর নির্ভরতা নেই বললেই চলে।

চামড়া শিল্পে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এবার কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে সরকার বিনামূল্যে লবণ বিতরণের ঘোষণা দিয়েছে। কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ করে বিদেশে রপ্তানি করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির তাবিথ আউয়াল বলেন, প্রাণিসম্পদে সাপ্লাই চেইনে নজর দিতে হবে। অতীতে এ খাতের কী ক্ষতি হয়েছে তা আমরা সবাই জানি। এখন এই খাতকে এগিয়ে নিতে কি করতে হবে তা আমাদের ভাবতে হবে।

বাংলাদেশ বর্তমানে মাংস রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে। পাশাপাশি দুধ উৎপাদনেও নজর দিতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, ইসলাম ধর্মে প্রাণীর যে আধ্যাত্মিক মর্যাদা দেওয়া হয়েছে সেই মর্যাদা অন্য কোন ধর্মে দেওয়া হয়নি। এমন কোন প্রাণী কোরবানি করতে পারবেন না, বিক্রি করতে পারবেন না; যে প্রাণী অসুস্থ।

চামড়ার দাম কমিয়ে রাখা হয়েছিল মাদ্রাসা গুলোকে ধ্বংস করার জন্য। এটি করা হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে, যাতে মাদ্রাসাগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক বলেন, আমরা লোকাল ব্রিড ও ক্রস ব্রিড উভয়েই গুরুত্ব দেবো। বাজারে মধ্যস্বত্তভোগীকে ঠেকাতে হবে, যাতে প্রান্তিক খামারিরা ন্যায্য মূল্য পান।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে এখন সবচেয়ে বেশি বৈষম্য তৈরি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ( উৎপাদন) ড. এবিএম খালেদুজ্জামান ও প্রাণিসম্পদ ও ডেইরী উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি) পরিচালক ডা. মো. জসিম উদ্দিন। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন পজেটিভ বায়োটেক লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফায়জুর রহমান, ডব্লিউএম এন্টারপ্রাইজের দক্ষিণ এশিয়া প্রতিনিধি খন্দকার আমিনুল ইসলাম।