বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ:
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মহাযুদ্ধের দামামা, বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস জ্বালানি সংকটের শঙ্কা: আলোকসজ্জা পরিহার ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমানোর নির্দেশ সরকারের সাদিক আহমেদের পদত্যাগ: নীতি সুদহার কমানোর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত করল বাংলাদেশ ব্যাংক বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে চীনা প্রতিষ্ঠান; ৪,১৭০ জনের কর্মসংস্থান<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> ইরানে হামলায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার: যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ<gwmw style="display:none;"></gwmw> রপ্তানি সংকটের মুখে পোশাক শ্রমিকদের বেতন দিতে বিশেষ ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে: গভর্নর রপ্তানি খাতে ২৫০০ কোটি টাকা ছাড়: সরকারকে বিজিএমইএ’র ধন্যবাদ ডিসেম্বরে শ্রেণিকৃত ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী কানাডা: দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২.২২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: কানাডার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক জ্যেষ্ঠ সহকারী উপমন্ত্রী এবং প্রধান বাণিজ্য দূত সারা উইলশ গত ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডি‌সি‌সিআই) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরীর সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এই সভায় তিনি বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে কানাডার গভীর আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন।

এ সময় কানাডার হাইকমিশনার এইচ ই অজিত সিং বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিসংখ্যান

ডি‌সি‌সিআই-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২.২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কানাডায় রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১.৩২ বিলিয়ন ডলার এবং কানাডা থেকে বাংলাদেশে আমদানি ছিল ৯০১.০৯ মিলিয়ন ডলার।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে কানাডা হলো ২০তম বৃহত্তম উৎস। বাংলাদেশে কানাডার মোট এফডিআই স্টকের পরিমাণ ১৩২.৮৩ মিলিয়ন ডলার রেকর্ড করা হয়েছে।

কানাডার জন্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র

রাজীব এইচ চৌধুরী কানাডীয় ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বিশেষত নবায়নযোগ্য শক্তি, সবুজ প্রযুক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অটোমোটিভ কম্পোনেন্টস, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, আইটি ও ডিজিটাল অবকাঠামো, স্মার্ট লজিস্টিকস, ওয়্যারহাউসিং এবং কোল্ড চেইন সিস্টেমের মতো ক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

পাশাপাশি, তিনি কানাডাকে বাংলাদেশ থেকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হস্তশিল্প, বাই-সাইকেল, উচ্চমানের তৈরি পোশাক, সিরামিক, আসবাবপত্র এবং ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো পণ্য আমদানির উৎস হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দেন।

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে সহায়তার আশ্বাস কানাডার

কানাডার জ্যেষ্ঠ সহকারী উপমন্ত্রী সারা উইলশ বলেন, বাংলাদেশ কানাডার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। তিনি জানান, সাপ্লাই চেইন ইকোসিস্টেম উন্নয়নের মাধ্যমে বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে কানাডা সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে কানাডার অটোমোটিভ খাত নতুন বাজারের বৈচিত্র্য খুঁজছে এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি চমৎকার বাজার হতে পারে। এছাড়াও শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

‘বাংলাদেশের বেসরকারি খাত প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন’

কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বাংলাদেশের বেসরকারি খাতকে দেশের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, দক্ষতা প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, নার্সিং, কৃষি-প্রযুক্তি শিল্প এবং সহজে ব্যবসা করার পরিবেশ উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে কানাডা বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে খুবই আগ্রহী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

ডি‌সি‌সিআইয়ের সহ-সভাপতি মো. সেলিম সুলায়মান, বোর্ডের পরিচালক এবং কানাডীয় হাইকমিশনের কাউন্সিলর ও জ্যেষ্ঠ বাণিজ্য কমিশনার ডেবরা বয়েস সহ প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।