রবিবার ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
গণভোটের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা পল্লী বিদ্যুতের ৩ কোটি ৭২ লাখ গ্রাহকের কাছে যাবে ‘হ্যাঁ’ লিফলেট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ খাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা চালানো হবে আইসিএমএবি’র নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন মো. কাওসার আলম জলবায়ু পরিবর্তন ও ট্রাম্প: গণমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি বনাম বাস্তবতা গ্রিনল্যান্ড কিনতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের ১০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা লগারহেড কচ্ছপ ‘গুমুশ’-এর বিস্ময়কর যাত্রা: সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধিই কি কারণ?

বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ‘নীতিগত দুর্বলতা ও প্রায়োগিক অরাজকতা’র শিকার: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :বাংলাদেশে ই-বর্জ্য (ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বর্তমানে চরম নীতিনির্ধারণী স্থবিরতা ও সুশাসনের ঘাটতিতে জর্জরিত বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, দেশে উৎপন্ন ই-বর্জ্যের ৯৭ শতাংশই কোনো প্রশাসনিক তদারকি ছাড়াই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ধানমণ্ডিস্থ টিআইবি কার্যালয়ে “বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়” শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

গবেষণার মূল চিত্র:

  • অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের আধিপত্য: দেশে উৎপাদিত ই-বর্জ্যের মাত্র ৩ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক পুনঃপ্রক্রিয়ার আওতায় আসছে, বাকি ৯৭ শতাংশই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপায়ে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে।
  • অবৈধ আমদানি-রপ্তানি: আমদানি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও গত তিন বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন বিষাক্ত ই-বর্জ্য দেশে ঢুকেছে। অন্যদিকে, বাসেল কনভেনশন লঙ্ঘন করে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদেশে ই-বর্জ্য উপাদান রপ্তানি করা হচ্ছে।
  • ইভিএম ও সোলার প্যানেল ঝুঁকি: বিগত সরকারের আমলে কেনা ইভিএম মেশিনের সঠিক ব্যবস্থাপনা না হওয়া এবং সোলার প্যানেল থেকে ২০৬০ সালের মধ্যে প্রায় ৫৫ লাখ টন ই-বর্জ্য তৈরির আশঙ্কা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
  • ভোক্তার অসচেতনতা: দেশের ৮৮ শতাংশ ভোক্তা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানেন না এবং ৭২ শতাংশ ব্যবহারকারী অচল সরঞ্জাম বাড়িতেই অনিরাপদ অবস্থায় ফেলে রাখছেন।

টিআইবির বক্তব্য:

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আমদানি নিষিদ্ধ হলেও হাজার হাজার টন বিষাক্ত ই-বর্জ্য দেশে ঢুকছে, যা পরিবেশ অধিদপ্তরসহ তদারকি সংস্থাগুলোর পেশাগত ব্যর্থতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আইনি কাঠামোটি বর্তমানে কেবল কাগুজে দলিলে সীমাবদ্ধ।” তিনি আরও জানান, নিবন্ধন ও ছাড়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

উত্তরণে টিআইবির ১২ দফা সুপারিশ:

বিদ্যমান অরাজকতা নিরসনে টিআইবি ১২ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১. ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১ এবং বাসেল কনভেনশনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

২. পরিবেশগত ছাড়পত্র ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করে দুর্নীতি বন্ধ করা।

৩. পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিটিআরসির মধ্যে সমন্বিত ‘ওয়ান-স্টপ’ সেবা চালু করা।

৪. অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ভাঙ্গারিওয়ালাদের আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাঠামোর আওতায় আনা।

৫. সোলার প্যানেল ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের বর্জ্য মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী ‘ই-বর্জ্য রোডম্যাপ’ প্রণয়ন করা।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি সতর্ক করে দেয় যে, যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে এই বিষাক্ত বর্জ্য জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য এক অপ্রতিরোধ্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।

আরও পড়ুন