বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ:
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মহাযুদ্ধের দামামা, বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস জ্বালানি সংকটের শঙ্কা: আলোকসজ্জা পরিহার ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমানোর নির্দেশ সরকারের সাদিক আহমেদের পদত্যাগ: নীতি সুদহার কমানোর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত করল বাংলাদেশ ব্যাংক বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে চীনা প্রতিষ্ঠান; ৪,১৭০ জনের কর্মসংস্থান<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> ইরানে হামলায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার: যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ<gwmw style="display:none;"></gwmw> রপ্তানি সংকটের মুখে পোশাক শ্রমিকদের বেতন দিতে বিশেষ ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে: গভর্নর রপ্তানি খাতে ২৫০০ কোটি টাকা ছাড়: সরকারকে বিজিএমইএ’র ধন্যবাদ ডিসেম্বরে শ্রেণিকৃত ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা

পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারে ১২টি আন্তর্জাতিক ফার্মের সাথে চুক্তির নির্দেশ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা, ৬ : সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য এবং বেশ কয়েকটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর দ্বারা বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সমন্বিত প্রচেষ্টা শুরু করার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে অবিলম্বে ১২টি আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার (Asset Recovery) এবং আইন সংস্থার সাথে চুক্তি করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ।

আজ (৬ অক্টোবর) গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়, যেখানে ৩২টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। এই বিদেশী সংস্থাগুলো জটিল অর্থ প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি সহায়তা প্রদান করবে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ওমর ফারুক খান ইউএনবিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধ তহবিল চিহ্নিত করে দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক আইন ও সম্পদ পুনরুদ্ধার সংস্থাগুলোর সাথে যুক্ত হবে।

তিনি বলেন, “কিছু ব্যাংক নেতৃত্ব দেবে, এবং অন্যদের সাথে কনসোর্টিয়াম গঠন করে এই সংস্থাগুলোর সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করবে। চুক্তি চূড়ান্ত হলে, আমরা পুনরুদ্ধারকৃত অর্থ কীভাবে জমা করা হবে তা মূল্যায়ন করব।”

ফারুক আরও জানান যে, স্পেশাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) ইতিমধ্যে বসুন্ধরা, নাসা এবং এস আলম গ্রুপসহ ১১টি স্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীকে অর্থ পাচারের সন্দেহে চিহ্নিত করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা নন-ডিসক্লোজার চুক্তির (NDA) অধীনে সম্পদ পুনরুদ্ধার সংস্থাগুলোর সাথে কাজ করব। কিছু প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।”

এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান জোর দিয়ে বলেন যে, এই উদ্যোগ পুরো ব্যাংকিং সেক্টর জুড়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে জড়িত করে একটি ব্যাপক প্রচেষ্টার প্রতিনিধিত্ব করে।

পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী যোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ পাচার প্রতিরোধের প্রেক্ষাপটে ১২টি আন্তর্জাতিক ফার্মের নাম উল্লেখ করেছে এবং এনডিএ’র অধীনে বিদেশী সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যাংকগুলোকে তাদের নিযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।

অর্থ পাচারে জড়িত ব্যক্তি ও সত্ত্বাগুলোর তালিকায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর আরামিত গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো, বসুন্ধরা, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, ওরিয়ন, জেমকন, নাবিল এবং সামিট সহ অন্যান্যরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে, যার একটি অংশ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার সুবিধা পেয়েছেন বলে মনে করা হয়।

নিয়ন্ত্রক তদারকি জোরদার করার জন্য একটি সম্পর্কিত পদক্ষেপে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি অবৈধ আর্থিক প্রবাহ মোকাবেলার ক্ষমতা বাড়াতে অর্থ পাচার সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিভাগ’ নামে একটি নতুন নিবেদিত সংস্থা স্থাপন করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে আসলো যখন চারটি বৈশ্বিক সংস্থা—দ্য স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি (STAR) ইনিশিয়েটিভ, ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (IACCC), ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (DOJ) এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাসেট রিকভারি (ICAR)—ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং তহবিল সম্পর্কিত আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

সিএ প্রেস উইং-এর একটি সাম্প্রতিক বিবৃতি অনুযায়ী, বাংলাদেশের তদন্ত সংস্থাগুলো এ পর্যন্ত পাচারকৃত অর্থ দিয়ে তৈরি আনুমানিক ৪০,০০০ কোটি টাকার সম্পদ চিহ্নিত করেছে।