নীলফামারী: দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা তীব্র জনবল সংকটে অচল হওয়ার পথে। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর ২০১৭ সালে ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা হলেও দক্ষ শ্রমিকের অভাবে মূল্যবান যন্ত্রপাতিগুলো অব্যবহৃত পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
বর্তমানে কারখানাটির মঞ্জুরিকৃত পদের বিপরীতে মাত্র এক-চতুর্থাংশ জনবল দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এই বিশাল ঘাটতির কারণে প্রতিদিনের কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সংবাদের মূল বিষয়সমূহ:
- তীব্র জনবল সংকট: কারখানায় মোট মঞ্জুরিকৃত পদের সংখ্যা ২,৮৫৯টি। তবে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৭১৬ জন শ্রমিক ও কর্মকর্তা। ফলে ২,১৪৩টি পদই এখন শূন্য পড়ে আছে।
- অব্যবহৃত আধুনিক যন্ত্রপাতি: আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় আমদানি করা ৪৩টি যান্ত্রিক এবং ১৩টি বৈদ্যুতিক মেশিনসহ প্রায় ১৫৩ কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি দক্ষ অপারেটরের অভাবে অলস পড়ে আছে।
- ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন: প্রতিদিন ৩টি কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বর্তমানে গড়ে মাত্র ২টি করে কোচ মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া ২৭টি শপের ৭৪০টি মেশিন চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ মিস্ত্রি বা শ্রমিক নেই।
- কাঁচামাল ও বাজেট সংকট: পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ না থাকায় সময়মতো কাঁচামাল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় নিম্নমানের কাঁচামাল সরবরাহের কারণে কাজের মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ জানান, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ২০১৩ সালে শেষবার কিছু জনবল নিয়োগ হলেও বড় ধরনের শূন্যতা রয়ে গেছে। বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকরা অতিরিক্ত সময় (ওভারটাইম) কাজ করে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করছেন।
রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন দ্রুত শূন্য পদে জনবল নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে, যাতে এই ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ কারখানাটির উৎপাদন ক্ষমতা আবার পূর্ণমাত্রায় ফিরে পায়।