সুকুমার বড়ুয়ার কন্যা অঞ্জনা বড়ুয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফুসফুসে পানি জমায় গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।
এক বর্ণাঢ্য জীবনের ইতি ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্ম নেন এই কালজয়ী সাহিত্যিক। তার জীবন ছিল লড়াই ও সাধনার এক অনন্য উদাহরণ। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও, নিজ মেধা ও সাধনায় তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা ছড়াসাহিত্যের অঘোষিত সম্রাট। ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে তিনি অবসরে যান।
ছড়াশিল্পে অনবদ্য অবদান সুকুমার বড়ুয়া তার ব্যঙ্গাত্মক, হাস্যরসাত্মক এবং নৈতিক শিক্ষামূলক লেখনীর জন্য পাঠকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে:
পাগলা ঘোড়া
ভিজে বেড়াল
চিচিং ফাঁক
এলোপাতাড়ি
নদীর খেলা
তার লেখনীতে শুধু শিশুতোষ ছড়াই নয়, বরং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক বার্তাও অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটে উঠেছে।
প্রাপ্তি ও সম্মাননা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার ২০১৭ সালে তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক-এ ভূষিত করে। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং আলাওল সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
তার মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ছড়াসম্রাট সুকুমার বড়ুয়ার প্রয়াণ বাংলা সাহিত্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।