আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ব্রাসেলস: গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থান এবং ইউরোপের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকির প্রেক্ষাপটে পাল্টা কঠোর ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ইইউ নেতারা এখন ‘ট্রেড রিট্যালিয়েশন’ বা বাণিজ্য প্রতিশোধ থেকে শুরু করে ‘বাজুকা’ নামক শক্তিশালী অর্থনৈতিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবছেন।
উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় ইইউ সদস্য দেশগুলোর ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর প্রতিবাদে গত রোববার ইইউ রাষ্ট্রদূতদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
ইউরোপের হাতে থাকা বিকল্পসমূহ
মার্কিন চাপ মোকাবিলায় ব্রাসেলস বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে:
১. ১০০ বিলিয়ন ডলারের পাল্টা শুল্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্যের একটি তালিকা আগে থেকেই তৈরি করে রেখেছে ইউরোপ। ট্রাম্প শুল্ক আরোপ করলে চুইংগাম, মোটরসাইকেল এবং পিনাট বাটারের মতো মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক বসাবে ইইউ।
২. ‘বাজুকা’ বা অ্যান্টি-কোয়ার্সন টুল:
ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী বাণিজ্য অস্ত্র ‘বাজুকা’ (Anti-coercion tool) ব্যবহারের কথা ভাবছে। এই আইনটি কার্যকর হলে ইউরোপে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সরকারি কাজে অংশগ্রহণ সীমিত করা, মেধাস্বত্ব অধিকার খর্ব করা এবং সেবার ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ পাবে ইইউ। দুই বছর আগে এই আইন করা হলেও এখন পর্যন্ত এটি ব্যবহার করা হয়নি।
৩. প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ও ঘাঁটি সীমিতকরণ:
ট্রাম্প বাণিজ্যকে নিরাপত্তার সাথে মিলিয়ে ফেললে ইউরোপও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সামরিক সহযোগিতা কমিয়ে দিতে পারে। চরম পদক্ষেপ হিসেবে জার্মানিতে অবস্থিত ‘রামস্টাইন এয়ার বেস’-এর মতো মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ব্যবহার সীমিত বা বন্ধ করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
৪. মার্কিন পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা স্থগিত:
গত গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সেই প্রক্রিয়া স্থগিত করার ডাক দিয়েছে। ফলে মার্কিন পণ্যগুলো ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে বেশি শুল্কের মুখে পড়তে পারে।

বিশ্বজুড়ে বিকল্প বন্ধু খোঁজা
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে গত শনিবারই দক্ষিণ আমেরিকার চারটি দেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তি সই করেছে ইইউ। এছাড়া চলতি মাসেই ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সাথে বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। একই সাথে চীনের সাথেও সম্পর্কের নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে ব্রাসেলস।
ইউরেশিয়া গ্রুপের ইউরোপীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজতবা রহমান বলেন, “ইউরোপীয় নেতারা মনে করছেন ট্রাম্পের সামরিক সমর্থনের জন্য তারা যে মূল্য দিচ্ছেন, তা এখন অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে। তাই এবার ইইউ-র পাল্টা জবাব দেওয়া অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
আগামী সপ্তাহে দাভোসে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে ইউরোপীয় নেতারা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।