আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ইস্তাম্বুল : গাজায় দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ (Board of Peace) একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। বৃহস্পতিবার তুরস্কের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এন-সোশ্যাল’ (NSosyal)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান জানান, সুইজারল্যান্ডের দাভোস-এ প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের পক্ষে তিনি এই শান্তি বোর্ডের সনদে স্বাক্ষর করেছেন। প্রেসিডেন্ট এরদোগান নিজেও এই বোর্ডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
গাজার ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে শক্তিশালী ভূমিকা
হাকান ফিদান তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন যে, গাজার জনগণের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব, মানবিক চাহিদা পূরণ এবং এই অঞ্চলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই বোর্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, গাজার মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার মাধ্যমে এই বোর্ড দেশটির ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় জোরালো প্রভাব ফেলবে। তুরস্ক সবসময় গাজাবাসীর অধিকার রক্ষা এবং তাদের কণ্ঠস্বর বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বোর্ড অব পিস-এর প্রেক্ষাপট
গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউস গাজার অন্তর্বর্তীকালীন শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য যে চারটি সংস্থা নির্ধারণ করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো এই ‘বোর্ড অব পিস’। এছাড়া গাজা প্রশাসনের জন্য একটি ‘জাতীয় কমিটি’ গঠনের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটি গঠন করা হয়েছে।
- জাতিসংঘের সমর্থন: গত নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত রেজোলিউশন ২৮০৩-এর অধীনে এই উদ্যোগ কার্যকর করা হচ্ছে।
- যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ: গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ শুরুর সময়েই এই বোর্ড গঠন করা হলো।
মানবিক বিপর্যয়ের পরিসংখ্যান
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত গাজায় ৭১,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১,৭১,০০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এই অঞ্চলটিকে পুনরায় সচল করতে ‘বোর্ড অব পিস’ একটি আন্তর্জাতিক তদারকি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।