সোমবার ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
গণভোটের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা পল্লী বিদ্যুতের ৩ কোটি ৭২ লাখ গ্রাহকের কাছে যাবে ‘হ্যাঁ’ লিফলেট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ খাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা চালানো হবে আইসিএমএবি’র নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন মো. কাওসার আলম জলবায়ু পরিবর্তন ও ট্রাম্প: গণমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি বনাম বাস্তবতা গ্রিনল্যান্ড কিনতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের ১০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা লগারহেড কচ্ছপ ‘গুমুশ’-এর বিস্ময়কর যাত্রা: সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধিই কি কারণ?

ক্যাশলেস সমাজ গঠনে ডিজিটাল ও কিউআর কোড পেমেন্টে জোর গভর্নরের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দেশে ক্যাশলেস সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র কেনাকাটাতেও ডিজিটাল ও কিউআর (QR) কোড-ভিত্তিক পেমেন্ট উৎসাহিত করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘এমক্যাশ’ (mCash)-এর রিব্র্যান্ডিং কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই তথ্য জানান।

গভর্নর বলেন, কেনাকাটার সকল ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে সরকারের রাজস্ব ১.৫ লক্ষ কোটি থেকে ২ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।

নগদ টাকা ব্যবস্থাপনায় ব্যয় হ্রাসের ওপর গুরুত্ব

ড. মনসুর উল্লেখ করেন যে, নগদ টাকা ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ ব্যয়কারী দেশ।

  • প্রতি বছর নগদ টাকা ব্যবস্থাপনায় প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়।
  • ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে এই ব্যয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসবে।

ইসলামী ব্যাংক ও এমক্যাশ নিয়ে দিকনির্দেশনা

দেশের একক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের ৩ কোটির বেশি গ্রাহক থাকায় ‘এমক্যাশ’ সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে এই অগ্রগতি বজায় রাখতে তিনি কিছু নির্দিষ্ট পরামর্শ দেন:

  • নেটওয়ার্কের ব্যবহার: ইসলামী ব্যাংকের ৪০০টি শাখা, ২৭১টি উপশাখা এবং প্রায় ২,৮০০টি এজেন্ট আউটলেটের বিশাল নেটওয়ার্ককে এমক্যাশের প্রসারে ব্যবহার করতে হবে।
  • রেমিট্যান্স প্রবাহ: ব্যাংকের রেমিট্যান্স প্রবাহে এমক্যাশকে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
  • আস্থা ও প্রণোদনা: দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা অর্জন এবং ক্যাশব্যাক ও অন্যান্য অফারের মাধ্যমে তাদের ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করতে হবে।

শরীয়াহ পরিপালন ও নতুন আইন

গভর্নর সতর্ক করে বলেন যে, ইসলামী ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই শরীয়াহ পরিপালন করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

  • তিনি জানান, ইসলামী ব্যাংক পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি আইনের খসড়া তৈরি করেছে।
  • এস. আলম গ্রুপসহ অন্যদেরকে যথাযথ শরীয়াহ বিধি না মেনে ঋণ দেওয়ার কারণে ইসলামী ব্যাংকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের মুখে পড়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দুর্নীতি হ্রাস ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা

গভর্নর জোর দিয়ে বলেন, রিটেইল মার্কেট ও এসএমই সেক্টরকে কিউআর কোড লেনদেনের আওতায় আনতে হবে। ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে দেশে দুর্নীতি কমবে, রাজস্ব বাড়বে এবং অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা আসবে। এছাড়া বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মধ্যে আন্তঃলেনদেন (Interoperable service) সহজ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ওমর ফারুক খাঁন। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যান, স্বতন্ত্র পরিচালক এবং ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।