নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের রাজস্ব আয় বাড়াতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সরকারের ব্যয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের আর্থিক চ্যালেঞ্জসমূহ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার যাত্রা সহজ হবে।
রাজস্ব বৃদ্ধিতে ডিজিটালাইজেশনের গুরুত্ব
সেমিনারে থিংক-ট্যাংক ‘পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা ড. এম. মাসরুর রিয়াজ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন এবং ক্যাশলেস (নগদবিহীন) কেনাকাটার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “এটি পরোক্ষ রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে এবং কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।”
তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, করের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত এবং কর নীতি নির্ধারণে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি করদাতাদের হয়রানি বন্ধে কর কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতা কমানোর আহ্বান জানান তিনি।
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির ৫ সূত্র
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, নির্বাচিত সরকারকে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে, বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থানে। তিনি সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর পক্ষে মত দেন যাতে তারা জীবনযাত্রার মান বজায় রেখে সেবার মান আরও উন্নত করতে পারেন।
তিনি বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে ৫টি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন:
১. আর্থিক সুযোগের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার।
২. বাজেট শৃঙ্খলা।
৩. অর্থনৈতিক খাতের পুনর্গঠন।
৪. কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
৫. সবার জন্য নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
সেমিনারে অর্থনীতিবিদ জ্যোতি রহমান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়া ইউনিলিভার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসুদ খান, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট স্নেহাশিষ বড়ুয়া এবং রাজস্ব বিশেষজ্ঞ ড. শফিকুর রহমানসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’-এর ফাহিম মাশরুর।
বক্তারা ঐক্যমতে পৌঁছান যে, অর্থনৈতিক খাতের সংস্কার এবং কর্মসংস্থানমুখী নীতি গ্রহণ করা হলে দেশের রাজস্ব পরিস্থিতির টেকসই উন্নতি সম্ভব।