নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বাংলাদেশে মোবাইল হ্যান্ডসেটের অবৈধ বাজার বন্ধ এবং গ্রাহক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাস্তবায়নকে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি)।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়, ‘এনইআইআর-এর হাত ধরে শুরু হোক নিরাপদ বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল লেনদেন ও গ্রাহক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, এই সিস্টেম কার্যকর হওয়ার ফলে অবৈধ, নকল এবং চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের ব্যবহার সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শাহিদ ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর চালু করার সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘সময়োপযোগী ও ইতিবাচক’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নকল ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারে একটি সুষ্ঠু প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা অনেক সহজ হবে।”
সংগঠনটি স্মার্টফোন আমদানিতে শুল্ক ৬১ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রায় ৪৩ শতাংশ করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে। তারা মনে করে, এই শুল্ক হ্রাস এবং এনইআইআর-এর সমন্বিত প্রভাবে হ্যান্ডসেটের দাম কমবে এবং বৈধ আমদানিতে ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবেন।
স্থানীয় মোবাইল খাতের চিত্র ও অর্থনীতিতে প্রভাব
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে ১৮টি স্থানীয় উৎপাদন কারখানায় ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে। এই খাতে প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যার মধ্যে ৫০ হাজার দক্ষ শ্রমিক এবং এদের ৩০ শতাংশই নারী।
বক্তারা আরও জানান, এর আগে অবৈধ ‘গ্রে মার্কেট’ বা চোরাই পথে আসা হ্যান্ডসেটের কারণে সরকার প্রতি বছর প্রায় ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাত। এনইআইআর সিস্টেম এই বিশাল রাজস্ব ক্ষতি রোধ করতে সাহায্য করবে।
বিটিআরসিতে হামলার নিন্দা
গত ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এমআইওবি। তারা স্পষ্ট করে বলেন, সারা দেশে ১২ হাজার মোবাইল ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১,৫০০ জন ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী এই প্রতিবাদের নামে বিশৃঙ্খলায় লিপ্ত ছিল।
এমআইওবি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে যে, এ ধরনের বিশৃঙ্খলা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) নিরুৎসাহিত করতে পারে। তারা যে কোনো দ্বিমত বা সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে আইনি পথে সমাধানের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এমআইওবি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, সাইফুদ্দিন টিপু, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল হারুন এবং এমআইওবি কোষাধ্যক্ষ ইমাম উদ্দিন।