নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ আসনেই জয়লাভ করেছেন একই গ্রামের তিন কৃতী সন্তান। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের এই তিন জয়ী প্রার্থীই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ফল ঘোষণার পর থেকেই গহিরা গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নির্বাচিত তিন সাংসদ হলেন— বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, তাঁর ভাতিজা হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং প্রয়াত জ্যেষ্ঠ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান): বড় জয় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর
নিজ নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী ইলিয়াছ নূরী (মোমবাতি) পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৪৬ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহাজাহান মঞ্জু ২২ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া): বিজয়ী ভাতিজা হুম্মাম কাদের চৌধুরী
পাশের আসন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) থেকে নির্বাচিত হয়েছেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। চাচা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং ভাতিজা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর এই যুগপৎ বিজয় গহিরা গ্রামের মানুষের আনন্দকে দ্বিগুণ করেছে। হুম্মাম কাদের চৌধুরী ১ লাখ ২৪২ ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৪৮৫ ভোট।
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর): বাবার উত্তরসূরি সাঈদ আল নোমান
শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) থেকে নির্বাচিত হয়েছেন গহিরা গ্রামের আরেক সন্তান সাঈদ আল নোমান। তিনি বিএনপির প্রয়াত জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের বড় ছেলে। বাবার রাজনৈতিক লিগ্যাসি ধরে রেখে সাঈদ আল নোমান ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর শামসুজ্জামান হেলালী পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একই গ্রাম থেকে একই দলের তিন প্রার্থীর সংসদ সদস্য হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সচরাচর দেখা যায় না। এই বিজয় গহিরা গ্রামকে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।